
হবিগঞ্জের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। দেশের জাতীয় উদ্যানগুলোর মধ্যে অন্যতম উদ্যানটি ২০০৫ সালে প্রায় ৬০০ একর জায়গা নিয়ে গঠিত হয়। এই উদ্যানের চারপাশে রয়েছে সবুজের গালিচা বিছানো নয়টি চা-বাগান। সবুজ প্রকৃতির সঙ্গে অবসর সময় কাটাতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এসে এখানে ভিড় করেন।
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে নির্মাণাধীন একটি ঝুলন্ত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ও সুরক্ষা গাইডওয়াল উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে। প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই এমন ঘটনায় নির্মাণমান, প্রকল্প পরিকল্পনা এবং তদারকি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও পরিবেশসংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও যথাযথ তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বলছে, টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের কারণেই প্রকল্পের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের ধারণা, প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নকশাতেও বড় ধরনের ত্রুটি থাকতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের প্রবেশমুখে পাহাড়ি ছড়ার ওপর নির্মিত পুরোনো সেতুটি কয়েক বছর আগে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পর্যটকদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হলে নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি।
চুনারুঘাট উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের মে মাসে ওই জায়গায় শুরু হয় নতুন ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের কাজ। একই সঙ্গে সেতুর দুই পাশে মাটি রক্ষা এবং পাহাড়ি ঢলের ক্ষতি ঠেকাতে গাইডওয়াল নির্মাণও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পুরো প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ টাকা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, প্রকল্পটির কাজ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। এর মধ্যেই প্রকল্পের প্রায় ৬৫ শতাংশ বিল ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের মেইন গেট দিয়ে ঢুকলে চোখে পড়ে নির্মাণাধীন ঝুলন্ত সেতুটি। সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের বড় অংশ ধসে গেছে। ধসে যাওয়া অংশ তড়িঘড়ি করে সংস্কার করেছে এলজিইডি। পাশাপাশি গাইডওয়ালের বিস্তীর্ণ অংশ ভেঙে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যেকোনো সময় পুরো গাইডওয়াল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেতুটিরও বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে।
এ দিকে কাজ শেষ হওয়ার আগেই অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধসে পড়ায় প্রকল্পটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই নির্মাণকাজে বিভিন্ন অনিয়ম ছিল। নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি কাজের গুণগত মানও সন্তোষজনক ছিল না। প্রকল্পে ব্যবহৃত বালু ক্রয় করে দেওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার সরকারি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু নির্মাণকাজে লাগিয়েছেন। এ দিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত তদারকি থাকলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই এমন ধস হতো না বলে মনে করেন তারা।
স্থানীয় আদিবাসী নেতা চিত্ত রঞ্জন বর্মণ বলেন, ‘পর্যটন এলাকায় সেতু নির্মাণে এমন অনিয়ম হতাশাজনক। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণে ঠিকাদারের উচিত ছিল সঠিকভাবে কাজ করা।’
পর্যটন নিয়ে কাজ করেন ‘বিউটিফুল চুনারুঘাট’-এর পৃষ্ঠপোষক মশিউর রহমান খান জুমেল। তিনি বলেন, ‘সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র। তাই প্রকল্পটির কারিগরি ত্রুটি, নির্মাণমান এবং সম্ভাব্য অনিয়ম নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। অন্যথায় পর্যটকদের নিরাপত্তা যেমন বিঘ্নিত হবে, তেমনি সরকারের অর্থও অপচয়ের ঝুঁকিতে পড়বে।’
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক এখানে আসেন। পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো নির্মাণে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চুনারুঘাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, ‘অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ছড়ার প্রবল স্রোতের কারণে সংযোগ সড়ক ও গাইডওয়ালের ক্ষতি হয়েছে। তবে নির্মাণকাজে ঠিকাদারের কিছু অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নকশাতেও ত্রুটি থাকতে পারে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

১৮ জুলাই রাতে উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান ওয়াদুদ মিয়ার বাড়িতে প্রতিদিনের মতো খাওয়াদাওয়া শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে হঠাৎ দরজায় ডাক শুনে বাইরে বের হন সিদ্দিকুর রহমান ওয়াদুদ। এ সময় ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ছয় সদস্যের একটি ডাকাত দল ঘরের ভেতরে...
৩২ মিনিট আগে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭০ কেজি গাঁজা ও একটি পিকআপ ভ্যানসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির গোয়েন্দা (মতিঝিল) বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসাইন।
৩৫ মিনিট আগে
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘুষির আঘাতে দেয়ালে ধাক্কা লেগে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের নিশ্চিতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
১ ঘণ্টা আগে
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগের ৩১ জন, লালবাগে ৩০ জন, ওয়ারীতে ৪৯ জন, মতিঝিলে ৫৪ জন, তেজগাঁওয়ে ১৩২ জন, মিরপুরে ১১৯ জন, গুলশানে ২৯ জন, উত্তরায় ৫৬ জন, গোয়েন্দা বিভাগের ৬ জন এবং সিটিটিসির ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া যাত্রাবাড়ী, তুরাগ ও বংশাল থানা-পুলিশ ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করে...
২ ঘণ্টা আগে