Ajker Patrika

আগামীকাল থেকে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে রেল চলাচল শুরু

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ৪১
আগামীকাল থেকে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে রেল চলাচল শুরু
আগামীকাল দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনটি ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে প্রথম যাত্রা শুরু করবে। ছবি: আজকের পত্রিকা

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর আগামীকাল সোমবার (১০ আগস্ট) থেকে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন। রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় গোপালগঞ্জবাসীর মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, স্বল্প খরচে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের পাশাপাশি এ রেল যোগাযোগ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বেলা ২টা ৩০ মিনিটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনটি ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে প্রথম যাত্রা শুরু করবে। ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে। পরে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে রাজধানীতে পৌঁছাবে।

প্রায় ৭০০ আসনবিশিষ্ট এই ট্রেন চালুর ফলে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়কপথের তুলনায় কম ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ থাকায় ট্রেনটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বাসে ঢাকা যেতে যেখানে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া গুনতে হয়, সেখানে ট্রেনে মাত্র ১৪৫ টাকায় রাজধানীতে যাওয়া যাবে। শুধু গোপালগঞ্জ নয়, পাশের জেলা পিরোজপুর ও বাগেরহাটের বাসিন্দারাও এ রেল যোগাযোগের সুফল পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মো. মতিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এটি একটি বড় পাওয়া। বাসে অন্তত ৫০০ টাকা লাগে, সেখানে মাত্র ১৪৫ টাকা খরচে সরাসরি ঢাকায় যাওয়া যাবে। এ ছাড়া শাকসবজি পরিবহনের জন্য বগি থাকলে বিকেলে ফসল কেটে সহজেই কৃষকরা রাতে ঢাকার আড়তে পাঠাতে পারবেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনিরুল বলেন, ‘এমপি মহোদয়ের প্রচেষ্টায় ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেনটি চালু হচ্ছে। বাসে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচের পাশাপাশি দুর্ঘটনার একটা ভয় থাকে। ট্রেনে যেমন খরচ কম, তেমনি যাতায়াতও অনেক নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে।’

তবে ট্রেনের সময়সূচি নিয়ে কিছুটা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ‘ট্রেন চালু হওয়া আনন্দের বিষয় হলেও সময়সূচিটা আরেকটু ভেবে দেখা দরকার ছিল। সকালের দিকে ট্রেন দিলে মানুষ দিনে দিনে ঢাকায় গিয়ে কাজ বা অফিস শেষ করে আবার গোপালগঞ্জে ফিরে আসতে পারত।’

গোপালগঞ্জের রেলযান পরীক্ষক পল্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে এক জোড়া ট্রেন চালানো গোপালগঞ্জবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন ছিল। গোপালগঞ্জ-২ আসনের এমপি কে এম বাবর মহোদয়ের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। প্রায় ৭০০ আসনের এই কমিউটার ট্রেনে মাত্র ১৪৫ টাকায় ঢাকা যাতায়াত করা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গোপালগঞ্জ একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল। ভবিষ্যতে রেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অতিরিক্ত লাগেজ বগি যুক্ত করা সম্ভব হলে যাত্রীদের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকরাও স্বল্পমূল্যে শাকসবজি ও উৎপাদিত পণ্য ঢাকায় পাঠাতে পারবেন।’

গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার রত্না বৈদ্য বলেন, ‘রাজশাহী রুটের ট্রেন চালু থাকলেও ঢাকার সঙ্গে সরাসরি কোনো ট্রেন ছিল না। ১০ আগস্ট থেকে সার্ভিসটি চালু হলে যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে। প্রচুর যাত্রী হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত