Ajker Patrika

গাজীপুরে ৫ হত্যা

পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন ফোরকান, দাবি পুলিশের

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  
আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ১৯: ৩৫
পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন ফোরকান, দাবি পুলিশের
বাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় মা ও তিন মেয়েসহ পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মো. ফোরকান মোল্লার হদিস এখনো মেলেনি। তবে ঘটনার পর পদ্মা সেতু থেকে এক ব্যক্তির নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ পেয়েছে পুলিশ। ওই ব্যক্তিকে ফোরকান বলে ধারণা করলেও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা শতভাগ নিশ্চিত হতে পারেননি। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।

৯ মে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে শারমিন (৩৫), তাঁর সন্তান মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ভাই রসুলের (২২) রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। এই পাঁচ খুনের ঘটনায় শারমিনের স্বামী ফোরকান মোল্লাকে প্রধান আসামি করে কাপাসিয়া থানায় মামলা হয়েছে। ফোরকানের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায়। ছয় মাস আগে রাউৎকোনা গ্রামে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন তিনি।

পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১১ মে আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি মেহেরপুর সদর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে জানা গেছে, একটি ট্রাকের হেলপার পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি এলাকায় রেলিংয়ের পাশে মোবাইল ফোনটি পড়ে থাকতে দেখে সেটি নিয়েছেন। পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় পুলিশ দেখতে পায়, ১১ মে সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি একটি সাদা প্রাইভেট কার থেকে নেমে রেলিংয়ের পাশে কিছু রেখে দেড়-দুই মিনিট অবস্থান করেন। পরে তিনি রেলিং টপকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন। ভিডিও ফুটেজটি ফোরকানের স্বজনদের দেখালে তাঁরা জানান, পদ্মায় ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তি ফোরকান বলে ধারণা করছেন তাঁরা। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছেন না তাঁরা। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এ ব্যাপারে পদ্মা সেতু-সংলগ্ন থানাগুলোতে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার ও লাশের ডিএনএ পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। মামলার তদন্ত চলমান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ মে রাতে ফোরকান তাঁর শ্যালক মো. রসুল মোল্লাকে গার্মেন্টসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে গাজীপুরের কাপাসিয়ার বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর ৮ মে রাত থেকে ৯ মে ভোরের মধ্যে যেকোনো সময় রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে অচেতন করা হয়। পরে চারজনকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে এবং একজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত