Ajker Patrika

ধুনটে ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের বিচার দাবিতে মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
ধুনটে ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের বিচার দাবিতে মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি
ধুনট দারুল উলুম ক্বওমী মাদ্রাসা। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার ধুনটে ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে বিচারের দাবিতে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ছাত্রদের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

এর আগে ১১ মে যৌন নিপীড়নের শিকার ছাত্র (১৪) বাদী হয়ে ধুনট দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল বাছেতের নামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল বাছেত ধুনট দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার কারণে শিক্ষক আব্দুল বাছেতের কক্ষে রাত যাপন করত ওই ছাত্র। একই কক্ষে ঘুমানোর সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে রাত গভীর হলে ওই ছাত্রকে যৌন নিপীড়নসহ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজে বাধ্য করতেন শিক্ষক আব্দুল বাছেত। ওই ছাত্র রাজি না হলে তাকে ভয়ভীতি ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এ ছাড়া এসব কথা কাউকে না বলার জন্য ছাত্রকে মানসিক চাপ প্রয়োগ করতেন তিনি।

এর আগে ওই ছাত্র বিষয়টি নিয়ে আব্দুল বাছেতের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলামের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসার শিক্ষকেরা বৈঠক করে আব্দুল বাছেতকে মাদ্রাসার আবাসিকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। এই ঘটনায় শিক্ষক আব্দুল বাছেত ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগকারীসহ অন্য শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকেন। ফলে বাধ্য হয়ে ওই ছাত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও এর কোনো বিচার সে পায়নি। এ কারণে আজ মাদ্রাসার ছাত্রদের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে শিক্ষক আব্দুল বাছেত বলেন, মডেল মসজিদের ইমাম নিয়োগ নিয়ে কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে তাঁরা এক ছাত্রকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওই ছাত্রকে দিয়ে শিক্ষক আব্দুল বাছেত শরীর টিপে নিতেন। এ কারণে তাঁকে আবাসিকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। কমিটির তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রকে যৌন নিপীড়নে শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত