Ajker Patrika

কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের অবরোধ ও বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৬: ২৯
কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের অবরোধ ও বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০
কালিয়াকৈরে পুলিশ ও পোশাক শ্রমিকদের সংঘর্ষে বিজিবি সদস্যসহ আহত ৩০। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আজ সোমবার পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও যানবাহন ভাঙচুর করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বিজিবি সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। দুপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা, শ্রমিক, পুলিশ ও যাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, টানা শ্রমিক আন্দোলনের পর গতকাল রোববার সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করে। এরপরও শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে আজ সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন শুরু করেন।

সকাল আটটার দিকে শ্রমিকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মৌচাক, সফিপুর, আনসার একাডেমির ৩ নম্বর গেট, হরিণহাটি ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। অবরোধে মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শ্রমিকেরা সফিপুরের আনসার একাডেমির ৩ নম্বর গেট এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি আড়াআড়ি ফেলে মহাসড়ক বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে বিজিবি, কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় খুঁটিটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

বেলা ১১টার দিকে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এ সময় বিজিবি, কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। শ্রমিকেরা এরপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইটপাটকেলের আঘাতে বিজিবি সদস্য কবির, সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন ও আবদুল মান্নানসহ কয়েকজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিজিবি, পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের চেষ্টায় দুপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কালিয়াকৈরে পুলিশ ও পোশাক শ্রমিকদের সংঘর্ষে বিজিবি সদস্যসহ আহত ৩০। ছবি: আজকের পত্রিকা
কালিয়াকৈরে পুলিশ ও পোশাক শ্রমিকদের সংঘর্ষে বিজিবি সদস্যসহ আহত ৩০। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা বলেন, শুধু মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন করলেই হবে না। তাঁদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

পুলিশের ভাষ্য, শ্রমিকদের নামে তৃতীয় পক্ষ বা একটি শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে কয়েক দিন ধরে সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এ অভিযোগে গতকাল রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও সড়কে নামেন। ‘শিল্প বাঁচলে বাঁচবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হন।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের সরানোর চেষ্টা করলে তাঁদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী ও পোশাকশ্রমিক আহত হন। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহম্মেদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন করেছে সরকার। খুব তাড়াতাড়ি শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করা হবে। তারপরও শ্রমিকেরা কিন্তু রাস্তায় নামার কথা না।’

পারভেজ আহম্মেদ আরও বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি, এই পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় আওয়ামী সন্ত্রাসী খাত্তাব মোল্লা এবং চন্দ্রা এলাকার ছোট শহীদসহ দোসররা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে তারা শ্রমিকদের নাম করে রাস্তা অবরোধ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে। আমাদের বিএনপির নেতা-কর্মীরা অনেকেই আহত হয়েছেন। আমরা এর প্রতিবাদে বিএনপির সব নেতা-কর্মী রাস্তায় অবস্থান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে। কিন্তু মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন করার পর শ্রমিকেরা আশাবাদী, তাঁদের আন্দোলনে যাওয়ার কথা না।’

শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকদের নামে তৃতীয় পক্ষ বা শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে কয়েক দিন ধরে সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এমন অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেন বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত