বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করতে লাগবে ২ হাজার একর জমি

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য প্রায় ২ হাজার একর জমি প্রয়োজন হবে। সেখানে ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ ওঠানামার উপযোগী রানওয়ে তৈরির পরিকল্পনা করছে সরকার।
আজ রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভায় এ তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। সভায় কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মন্ত্রী বলেন, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য প্রায় ২ হাজার একর জমির প্রয়োজন হবে। এ বিমানবন্দরে ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে পারে, এমন রানওয়ে তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পটির সম্ভাব্য সময়সীমা, অর্থায়ন কিংবা জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে সভায় বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সভায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম, প্রকল্প গ্রহণ এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিগত ২০ বছরে জবাবদিহির ধারাবাহিকতা না থাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার যেকোনো ধরনের ক্রয়প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আধুনিকায়ন ও নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির বহর আধুনিক করতে ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। এখনই ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন না করলে আগামী কয়েক বছর পর বিমান তীব্র উড়োজাহাজ-সংকটে পড়তে পারে। নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে বর্তমান বহরের উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে উড্ডয়ন-অযোগ্য হয়ে পড়বে।
মন্ত্রী আরও বলেন, উড়োজাহাজ কেনার জন্য সরকার সরাসরি অর্থ ব্যয় করবে না। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নিজস্ব আয় থেকে পর্যায়ক্রমে এসব উড়োজাহাজের দাম পরিশোধ করবে। সরকার কেবল গ্যারান্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
বিগত সরকারের সময়ে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অতীতে যেসব অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা হয়েছে, সেগুলোর সঠিক তদন্ত করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বহাল থাকবে।









