Ajker Patrika

গাজীপুরের শ্রীপুর: এক বছরে ৩৩ খুন, তিন কারণে বেশি

  • কয়েকটি হত্যার রহস্য এখনো উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
  • স্থানীয়রা বলছেন মাদক, ছিনতাই আর জমি জবরদখলের কারণে বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ড।
  • গত বছর অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে ৭০টি, কিছু ঘটনায় স্বজনেরা মামলা করেননি।
রাতুল মণ্ডল, (শ্রীপুর) গাজীপুর
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯: ১৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে সদ্য বিদায়ী বছরে অন্তত ৩৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে ৪২টি। ৭০টি অপমৃত্যুর মামলা করাসহ ১১০ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শ্রীপুর থানা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, শিল্প-অধ্যুষিত এ জনপদে মাদকের ভয়াবহতা, ছিনতাই আর জমি জবরদখলের কারণে বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের (২০২৫) ৩০ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের নানাইয়া গ্রামে মাদকাসক্ত ছেলে আনোয়ার হোসেনকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন বাবা। মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচার থেকে বাঁচতে এ পথ বেছে নেন বলে বাবা মোহাম্মদ আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত ১ মে উপজেলার যোগীরসিট গ্রামে জমির বিরোধে মো. নাজমুল ইসলাম নামের এক যুবককে প্রতিবেশী মফিজ উদ্দিন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন করেন। ৯ মার্চ শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় মো. রেজাউল করিম নামের এক গার্মেন্টস কর্মীকে হাত-পা বেঁধে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করেন পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন শান্ত ও একই উপজেলার আফাজ উদ্দিনের ছেলে নূরুল ইসলাম ওরফে পাগলা মামু। তাঁরা দুজনেই এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি।

একই বছরের জানুয়ারি মাসে শ্রীপুর পৌরসভার মসজিদ মোড় এলাকায় পল্লিচিকিৎসক মো. হাসিবুল ইসলাম বাদশাকে ইট ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে খুন করা হয়। খুনের নেতৃত্ব দেন কিশোর গ্যাং লিডার রুবেল।

গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে জাসাস নেতা ফরিদ সরকারকে ইটভাটায় ডেকে নিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত তারা ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে।

২৪ অক্টোবর শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় মাদ্রাসার এক শিশুশিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন মাদ্রাসাশিক্ষক মোহাম্মদ মহসিন। বিষয়টি জানার পরপরই শিশুর স্বজন ও আশপাশের মানুষ এসে গণপিটুনি দেন মহসিনকে। পরে তাঁকে আটক করে পুলিশ।

১০ জানুয়ারি পৌরসভার ফখরুদ্দীন এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিককে আটকে রেখে তাঁর বোনকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দুদিন পর একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়ি থেকে পুলিশ ভুক্তভোগী নারী গার্মেন্টস কর্মী ও তাঁর ভাইকে উদ্ধার করে।

শ্রীপুর সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি ও মাওনা চৌরাস্তা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রৌশন হাসান রুবেল বলেন, ‘এখনই সময় আমাদের সবাইকে সচেতন হওয়ার। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের সমাজ-রাষ্ট্র থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।’

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, গত বছর শ্রীপুরে ৩৩টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বেশির ভাগ ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। বেশির ভাগ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। কয়েকটির তদন্ত চলমান। ধর্ষণের ঘটনায় ৪২টি মামলা করা হয়েছে। অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে ৭০টি। এ ছাড়াও বেশ কিছু আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে; কিন্তু স্বজনেরা মামলা করেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত