Ajker Patrika

তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে হালতি বিলের বোরো বীজতলা, চিন্তিত কৃষক

রানা আহমেদ, নলডাঙ্গা (নাটোর) 
তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে হালতি বিলের বোরো বীজতলা, চিন্তিত কৃষক
হালতি বিলে বীজতলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হালতি বিলের কৃষকেরা। কনকনে ঠান্ডায় বোরো বীজের চারা হলদে হয়ে পাতা পচে নষ্ট হচ্ছে। বীজতলা এভাবে নষ্ট হয়ে গেলে বোরো ধান চাষের খরচ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। কৃষি বিভাগ বলছে, দেরিতে রোপণ করা বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বীজতলা রক্ষায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন পরামর্শ কৃষকদের দিচ্ছেন তাঁরা।

নাটোরে ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার দাপট বাড়ছে। এক সপ্তাহ সকাল থেকে দেখা নেই সূর্যের। সপ্তাহের মাঝে দুদিন দুপুরে রোদের আলো কিছুটা মিললেও কমেনি শীতের তীব্রতা। গত বুধবার থেকে আবারও তাপমাত্রা কমে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে। হাড়কাঁপানো শীতে মাঠে কাজ করতে গিয়ে কাঁপছেন কৃষক ও শ্রমিকেরা।

নলডাঙ্গা উপজেলার হালতি বিলে বোরো ধানের বীজতলার চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করা শুরু হয়েছে। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে (পাতা পচা রোগ) আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের বোরো বীজতলা। বালাইনাশক ছিটিয়েও পচন রোধ করা যাচ্ছে না।

হালতি বিলের তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক ইসাহাক আলী বলেন, ‘এবার আমি পাঁচ কাঠা জমিতে বোরো বীজতলা করেছি। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরা চলা কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় বোরো বীজের চারা গাছের পাতা হলদে রং ধারণ করে পচে যাচ্ছে। বালাইনাশক ছিটিয়ে কাজ হচ্ছে না। আমি দুশ্চিন্তায় আছি।’

আরেক কৃষক আসিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বোরো বীজতলা ও পেঁয়াজ খেতে পাতা মরা রোগ দেখা দিয়েছে। বোরো বীজের চারা হলদে হয়ে মারা যাচ্ছে। পরামর্শের জন্য কৃষি বিভাগের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমার মতো এলাকার শত শত কৃষকের একই অবস্থা। তাঁরাও চিন্তায় পড়েছেন।’

বীজতলা রক্ষায় অনেক কৃষক রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন বীজতলা। পরামর্শের জন্য কৃষি কর্মকর্তাদের পাশে পাওয়া যাচ্ছে না বলে কৃষকদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন।

নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নলডাঙ্গা উপজেলায় এবার ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে ৫৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা রোপণ হয়েছে। ইতিমধ্যে যেসব খেতের বীজতলার চারা বড় হয়ে গেছে, সেগুলো ক্ষতির আশঙ্কা নাই। দেরিতে রোপণ করা বোরো বীজতলা এই ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় কিছু নষ্টের শঙ্কা রয়েছে। তবে এই আবহাওয়া কেটে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না। বোরো বীজতলা রক্ষায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে এবং প্রতিদিন বীজতলা থেকে ঠান্ডা পানি বের করে সেচ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত