মোমেনুর রশিদ সাগর, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা)

টিউশনির পাশাপাশি সুযোগ পেলেই গ্রামে এসে কৃষিকাজ করতেন কোটাবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ (২৪)। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর বাবা অন্যের জমি বর্গা চাষ করে ছয় ছেলে ও তিন মেয়েসহ এগারো সদস্যের বিশাল পরিবারটির জন্য দুই বেলার খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতেন। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটানোর সামর্থ্য ছিল না তাঁর।
স্বাভাবিকভাবেই অভাবের সংসারে লেখাপড়া সুযোগ পাননি কেউই। সেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন শুধু আবু সাঈদ। খুব ছোটবেলা থেকেই বৃত্তি ও টিউশনির টাকা দিয়ে অনেক কষ্টে একবুক স্বপ্ন নিয়ে এতটা পথ পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বুলেটে শেষ হয়ে গেল সব সংগ্রাম-সাধনা। মুহূর্তেই চুরমার হয়ে গেল দরিদ্র মা-বাবাসহ একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন।
নিহতের মা মনোয়ারা বেগম আর্তনাদ করতে করতে বলেন, ‘হামার বাবা উজ্জ্বল। হামার বাবা একলা-একলাই লেখাপড়া কচ্চে। হামার বাবা জীবনে কত কষ্ট কচ্চে। হামার বাবা কাম-কিষানি করে লেখা-পড়া কচ্চে। হামি বিচার চাই।’
এলাকাবাসী জানান, ছোট থেকেই আবু সাঈদ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তাঁর ব্যবহারে তাঁর প্রতি সবাই মুগ্ধ ছিল। তিনি স্থানীয় জুনুদের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। পরে এলাকার খালাশপীর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর রংপুর সরকারি কলেজ থেকেও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।
৯ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন সাঈদ। তাঁকে ঘিরে আকাশসম স্বপ্ন ছিল দরিদ্র বাবা-মায়ের। তাঁকে হারিয়ে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে পরিবারটির। চমৎকার আচার-ব্যবহারের কারণে গ্রামে সবার প্রিয় ছিলেন সাঈদ।
মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় নিহত হন আবু সাঈদ। দিবাগত রাত ২টার দিকে আবু সাঈদের মরদেহ তাঁর গ্রামে এসে পৌঁছায়। এলাকার শত শত মানুষ তাঁকে একনজর দেখার জন্য আবু সাঈদের বাড়িতে অপেক্ষমাণ ছিল। মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। আজ বুধবার সকাল ৯টায় রংপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামে জাফরপাড়া মাদ্রাসা মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মানুষের ঢল নামে।
জানাজায় ইমামতি করেন আবু সাঈদের আত্মীয় মো. সিয়াম মিয়া। পরে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হোন আবু সাঈদ।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বেরোবির কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শহরের লালবাগ এলাকায় থেকে ক্যাম্পাসের দিকে যান। এরপর ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ করে রাবার বুলেট ছোড়ে। এই সংঘর্ষে নিহত হন আবু সাঈদ

টিউশনির পাশাপাশি সুযোগ পেলেই গ্রামে এসে কৃষিকাজ করতেন কোটাবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ (২৪)। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর বাবা অন্যের জমি বর্গা চাষ করে ছয় ছেলে ও তিন মেয়েসহ এগারো সদস্যের বিশাল পরিবারটির জন্য দুই বেলার খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতেন। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটানোর সামর্থ্য ছিল না তাঁর।
স্বাভাবিকভাবেই অভাবের সংসারে লেখাপড়া সুযোগ পাননি কেউই। সেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন শুধু আবু সাঈদ। খুব ছোটবেলা থেকেই বৃত্তি ও টিউশনির টাকা দিয়ে অনেক কষ্টে একবুক স্বপ্ন নিয়ে এতটা পথ পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বুলেটে শেষ হয়ে গেল সব সংগ্রাম-সাধনা। মুহূর্তেই চুরমার হয়ে গেল দরিদ্র মা-বাবাসহ একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন।
নিহতের মা মনোয়ারা বেগম আর্তনাদ করতে করতে বলেন, ‘হামার বাবা উজ্জ্বল। হামার বাবা একলা-একলাই লেখাপড়া কচ্চে। হামার বাবা জীবনে কত কষ্ট কচ্চে। হামার বাবা কাম-কিষানি করে লেখা-পড়া কচ্চে। হামি বিচার চাই।’
এলাকাবাসী জানান, ছোট থেকেই আবু সাঈদ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তাঁর ব্যবহারে তাঁর প্রতি সবাই মুগ্ধ ছিল। তিনি স্থানীয় জুনুদের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। পরে এলাকার খালাশপীর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর রংপুর সরকারি কলেজ থেকেও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।
৯ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন সাঈদ। তাঁকে ঘিরে আকাশসম স্বপ্ন ছিল দরিদ্র বাবা-মায়ের। তাঁকে হারিয়ে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে পরিবারটির। চমৎকার আচার-ব্যবহারের কারণে গ্রামে সবার প্রিয় ছিলেন সাঈদ।
মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় নিহত হন আবু সাঈদ। দিবাগত রাত ২টার দিকে আবু সাঈদের মরদেহ তাঁর গ্রামে এসে পৌঁছায়। এলাকার শত শত মানুষ তাঁকে একনজর দেখার জন্য আবু সাঈদের বাড়িতে অপেক্ষমাণ ছিল। মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। আজ বুধবার সকাল ৯টায় রংপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামে জাফরপাড়া মাদ্রাসা মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মানুষের ঢল নামে।
জানাজায় ইমামতি করেন আবু সাঈদের আত্মীয় মো. সিয়াম মিয়া। পরে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হোন আবু সাঈদ।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বেরোবির কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শহরের লালবাগ এলাকায় থেকে ক্যাম্পাসের দিকে যান। এরপর ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ করে রাবার বুলেট ছোড়ে। এই সংঘর্ষে নিহত হন আবু সাঈদ

নৌ পুলিশ জানায়, রাতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে তাঁরা মেঘনা নদীতে নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। রাত ৩টার দিকে শান্তির বাজার এলাকায় নদীর পাড়ে লাশ দেখতে পেয়ে তা উদ্ধার করা হয়। পরে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
২৪ মিনিট আগে
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে যশোর ছাত্রদল ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করেছে। এই মিনি ম্যারাথন শিক্ষার্থী ও তরুণদের স্বাস্থ্য সচেতন হতে সহায়তা করবে। এ ছাড়া বিশেষ মানুষদের কর্মময় জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারব, যাতে নিজেদের তৈরি করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারি।’
২৮ মিনিট আগে
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) সংসদীয় আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মুশফিকুর রহমান। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দের চিঠি তিনি রোববার রাতে (১৮ জানুয়ারি)...
৪০ মিনিট আগে
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চলেছে। এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
১ ঘণ্টা আগে