Ajker Patrika

গরু পশু নয়, আমাদের মা—মুসলিম নেতাদের সতর্ক করলেন যোগী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ১৯: ৫০
গরু পশু নয়, আমাদের মা—মুসলিম নেতাদের সতর্ক করলেন যোগী
ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, গরু ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে কেবল একটি পশু নয়, বরং ‘মা’ হিসেবে পূজনীয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গতকাল সোমবার (১ জুন) এক সরকারি অনুষ্ঠানে গরুর মর্যাদা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে যোগী বলেন, যাঁরা গরুকে শুধু পশু হিসেবে দেখেন, তাঁরা পরোক্ষভাবে গোহত্যাকে সমর্থন করেন।

সম্প্রতি ভারতে গরুকে ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও নেতাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এসব মন্তব্য করেন যোগী। গরুকে ‘জাতীয় পশু’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি সমর্থন করেছিলেন দেশটির জমিয়ত উলেমা-এ-হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানিসহ কয়েকজন মুসলিম নেতা। তবে প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে যোগী বলেন, মায়ের সম্মান রক্ষার কথা কোনো সন্তানকে আলাদা করে শেখাতে হয় না। এ দেশের মানুষ নিজের মা ও গরুকে সমান শ্রদ্ধার চোখে দেখে।

যোগী আদিত্যনাথ আরও বলেন, ‘গরু আমাদের মাতা। তাকে পশু বলা মানসিকতা দারিদ্র্যের পরিচয়। গোমাতা আমাদের রাষ্ট্র-মাতা; এর জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রয়োজন নেই।’ যোগীর দাবি, ভারতীয় সমাজে গরুর মর্যাদা নিয়ে বাইরের কারও কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ, এটি দেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুর ছবি ব্যবহার করেও শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়ে সতর্ক করেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ইসলাম ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, অনুসারীদের এমন কোনো কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে, যা সমাজে উত্তেজনা বা উসকানি সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন—উত্তর প্রদেশে কেউ গোহত্যার চেষ্টা করলে তাকে ‘চরম পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে যোগী আদিত্যনাথ পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা ১ হাজার ৬৪৫টি পরিবারকে জমির মালিকানার সনদ দেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, দেশভাগের সময় ধর্মীয় কট্টরপন্থার কারণে বহু হিন্দু ও শিখ পরিবার তাদের সম্পত্তি হারিয়েছিল।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়েও বক্তব্য দেন যোগী আদিত্যনাথ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রশংসা করে যোগী বলেন, এই আইনের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সংখ্যালঘুরা নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে সিএএর বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকে উৎসাহ দিচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত