Ajker Patrika

জমি নিয়ে বিরোধে রাস্তায় বাঁশের বেড়া, ৩০টি পরিবার অবরুদ্ধ

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 
জমি নিয়ে বিরোধে রাস্তায় বাঁশের বেড়া, ৩০টি পরিবার অবরুদ্ধ
প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে জনচলাচলের রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে যাতায়াতের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ৩০ পরিবারের ২ শতাধিক মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে আছে। উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পূর্ব সোনারায় গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. মফিজল হক (৪৫) নামের এক ভুক্তভোগী। তিনি ওই গ্রামের মো. ছলেহ হক শেখের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মফিজল হকের বসতবাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে একটি রাস্তা রয়েছে, যা দিয়ে আশপাশের ৩০টি পরিবারের প্রায় ২০০ মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে। জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। অনেক আগে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় আসামিদের সাজাও হয়। পরে তাঁরা জামিনে বের হয়ে এসে পুনরায় মফিজল হকদের সঙ্গে বৈরী আচরণ করতে থাকেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত আবুল কাশেম, সাজা মিয়া, মনজু মিয়া, আবদুল গনি, উজ্জল মিয়া, অবিজল মিয়া, রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বসতবাড়ির উত্তর পাশের সীমানায় এসে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘের তৈরি করে রাস্তা বন্ধ করে দেন। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাঁদের মারধরের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁশ আর কঞ্চি দিয়ে শক্ত করে বেড়া দেওয়া হয়েছে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তায়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার অন্য ছোটখাটো পথগুলোতেও বেড়া দিয়ে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। ছোট-বড় সব মিলিয়ে চারটি বেড়া পাওয়া গেছে। চরম আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে অবরুদ্ধ ৩০ পরিবারের দুই শতাধিক নারী ও পুরুষ। বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় কাজে যেতে পারেননি শ্রমজীবীরা। স্কুলে যেতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। গরু-ছাগল নিয়ে মাঠে যেতে পারেননি কিষান-কিষানিরা। এই অবস্থা থেকে দ্রুত পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ও আশপাশ এলাকার সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগী মো. ছলেহ হক শেখ (৭৮) বলেন, ‘এই রাস্তা ব্রিটিশ আমল থেকে। আমার বাপ-দাদার চৌদ্দগোষ্ঠী হাঁটি আইসাছে। কাশিমের সঙ্গে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়েছে। সেই কারণে এই কাইশমে মামলার আসামিগুলাক দিয়ে হামার আস্তা বন্ধ করি দিছে। এখন ওমরা হামাক কোনো পাকে বাইর হবার দেয় না। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। গরু-ছাগলগুলাক নিয়া বাইর হওয়া যাচ্ছে না। হামাক ক্রোক দিয়া রাইকছে।’

ভুক্তভোগী খতেজা বেগম (৩৬) বলেন, ‘আমরা বাড়ি থাকি বাইর হতে পাচ্ছি না। আমার রাস্তাঘাট সব বন্ধ কইরছে। আমার হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল আছে। তারা না খেয়ে আছে। কোনো পাশে বাইর হতে পাচ্ছি না। আমার পোলাপানেরা স্কুলে যেতে পারছে না। আমাদের খুব জব্দ কইরবার নাকছে।’

কথা হয় আরেক ভুক্তভোগী রোজিনা বেগমের (৫৫) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার একটা ছেলে অটো চালায়, একটা ছেলে কৃষিকাজ করে। বাড়ি থাকি বাইর হবার দেয় না, হুমকি দেয়। নাটি-ঠেংগা নিয়া আমার বাড়িত আইসে মাইরবের জন্যে।’

বেড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত মো. মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘১০-১২ বছর ধরে আমাদের মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন তাঁরা। কয়েক দিন হয় জেল থেকে এসেছি। সে কারণে মনমানসিকতা ভালো নেই আমাদের। তারপরেও তাঁরা আমাদের অহেতুক গালিগালাজ করেন। সে কারণে এটা করেছি। তাঁরা আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করলে বিষয়টি ভেবে দেখা হবে।’

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ এ বিষয়ে তৎপর আছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত