Ajker Patrika

সুন্দরগঞ্জে ভিজিএফের চাল বিতরণ, বস্তায় ২ থেকে ২২ কেজি পর্যন্ত চাল কম

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 
সুন্দরগঞ্জে ভিজিএফের চাল বিতরণ, বস্তায় ২ থেকে ২২ কেজি পর্যন্ত চাল কম
সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ৫০ কেজির বস্তায় একটিতেও পূর্ণ পরিমাণ চাল নেই।

আজ শুক্রবার (১৫ মে) উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে চাল বিতরণের সময় এ অনিয়ম ধরা পড়ে। এ ইউনিয়নে ৪ হাজার ১৮০ জন উপকারভোগীর মাঝে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, পাঁচজন উপকারভোগীকে মিলে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো বস্তাতেই নির্ধারিত পরিমাণ চাল নেই। একাধিক বস্তা ওজন করে দেখা যায়, বস্তাগুলোতে ৪৪, ৪২, ৪৫ ও ৪০ কেজি করে চাল রয়েছে। পরে বিষয়টি জানালে ইউপি চেয়ারম্যান নিজেই কয়েকটি বস্তা পরিমাপ করলে কোনো কোনো বস্তায় মাত্র ২৮, ৩২ ও ৩৮ কেজি চালও পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রতিটি বস্তায় ২ থেকে ২২ কেজি পর্যন্ত চাল কম পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী প্রত্যেক উপকারভোগীর ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

আম্বিয়া নামের এক উপকারভোগী বলেন, ‘বাড়ি থেকে পরিষদে আসা-যাওয়ায় ৫০ টাকা খরচ হয়। চার কেজি চাল আমাকে কম দেওয়া হয়েছে। এর চাইতে ধান শুকানোর কাজ করাই ভালো ছিল।’

আমজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘গরিব মানুষের জন্য সরকার চাল দিয়েছে। সেই চালেও যদি কম দেওয়া হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব?’

একাধিক উপকারভোগী অভিযোগ করে বলেন, ‘চাল কম দিয়ে গরিব মানুষের হক মেরে খাওয়া হচ্ছে। বরাবরই চাল কম দেওয়া হয়।’

চাল কম দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর কিছু সময়ের জন্য বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবে পরে একই বস্তাগুলো পুনরায় বিতরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা আরও জানান, ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে প্রায় প্রতিবছরই ভিজিএফের চাল কম দেওয়া হয়। অনেক সময় প্রকৃত উপকারভোগীদের বিপরীতে বিত্তবানদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে তাঁরা প্রকাশ্যেই এসব চাল স্থানীয় ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করে দেন বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

চাল বিতরণে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও চলমান অনিয়মের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।

চাল বিতরণের সার্বিক দায়িত্বে থাকা ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মণ্ডল দোষ চাপান খাদ্যগুদামের ওপর। তিনি বলেন, ‘চাল গুদাম থেকে এনেছি, ওরাই কম দিয়েছেন। সে কারণেই চাল কম পেয়েছেন সুবিধাভোগীরা।’

তবে গুদাম থেকে চাল আনার সময় ওজন যাচাই না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এতগুলো বস্তা ওজন দেওয়া সম্ভব নয়, তাই পরিমাপ করা হয়নি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘দুস্থদের চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত