Ajker Patrika

ব্রহ্মপুত্রের বুকে বালুচর, যাতায়াতে দুর্ভোগ

  • গাইবান্ধা জেলায় ১৬৫টি চর ও দ্বীপচর রয়েছে।
  • মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
  • স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা
ব্রহ্মপুত্রের বুকে বালুচর, যাতায়াতে দুর্ভোগ
শুকনো মৌসুমের শুরুতেই পানি নেই ব্রহ্মপুত্রে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাইলের পর মাইল হেঁটে কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

একসময়ের খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদ আজ তার স্বাভাবিক গতিপথ হারাতে বসেছে। গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নদের বুকে পলি জমে জেগে উঠেছে ডুবোচর ও বিস্তীর্ণ বালুচর। পানি কমে যাওয়ায় থমকে গেছে নৌযান চলাচল। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাইলের পর মাইল হেঁটে কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

কৃষিনির্ভর উত্তরের জনপদ গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের পানিশূন্য বালুচর এখন মরুভূমির মতো ধু ধু প্রান্তর। চরাঞ্চলের মানুষকে এক চর থেকে আরেক চরে যেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও নদের বুক দিয়ে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে। একসময় যেখানে ঢেউয়ের গর্জনে তীর কেঁপে উঠত, সেখানে এখন শুধু বালু আর বালু।

বছরের প্রায় অর্ধেক সময় ব্রহ্মপুত্র নদ শুকনো থাকায় যোগাযোগব্যবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলে উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, সবজি ও পাট পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এসব পণ্য জেলার চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে তা কার্যত চাষিদের কাছে অসহনীয় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে কৃষকেরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলায় ১৬৫টি চর ও দ্বীপচর রয়েছে। এসব চরে প্রায় চার লাখের বেশি মানুষের বসবাস। তাদের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি। এ ছাড়া বালাশী-বাহাদুরাবাদ নৌঘাট দিয়ে উত্তরের অন্তত ১০ জেলার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। বর্তমানে নাব্যসংকট তাঁদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন করে তুলেছে।

চরাঞ্চলের স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন আট হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে খোলা বালুচর পাড়ি দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। ঘন কুয়াশা, তীব্র শীত, প্রচণ্ড রোদ কিংবা বর্ষা—সব মৌসুমেই এই যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ। চরাঞ্চলে কোনো স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতাল না থাকায় অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নাব্যসংকটের কারণে নদীর বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে ওঠায় নৌকা চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।

ফুলছড়ি চরের কৃষক নবিজল ইসলাম বলেন, ‘আগে নৌকায় আধা ঘণ্টায় পার হতাম। এখন বছরের অর্ধেক সময় হেঁটেই যাওয়া-আসা করতে হয়। শিশু ও অসুস্থ মানুষ নিয়ে চলাচল করা খুব কষ্টের।’

ওই চরের মুদিদোকানি ফয়জুল হক ও আহম্মদ আলী বলেন, ‘এখানে কোনো যানবাহন নেই, অটো নেই, ভ্যান নেই। যাতায়াত করতে খুবই কষ্ট হয়। বর্ষায় পানির কষ্ট, আর শুকনো মৌসুমে যাতায়াতে কষ্ট—আমাদের কপালটাই এমন।’

চরকাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়েম মিয়া বলে, ‘শুকনো মৌসুমে নদীতে পানি নেই, নৌকাও নেই। তাই হেঁটেই স্কুলে যেতে হয়। খুবই কষ্ট হয়।’

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, উজানে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, নদীভাঙন এবং বর্ষাকালে পলি জমে যাওয়ার কারণে শুষ্ক মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যসংকট দেখা দেয়। তিনি জানান, খননের মাধ্যমে নৌপথ সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে নদের বিশাল এলাকাজুড়ে এই সংকট নিরসন করা বড় চ্যালেঞ্জ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে কী ব্যাখ্যা দিল আইসিসি

প্যারোলে মুক্তি মেলেনি ছাত্রলীগ নেতার, কারাফটকে দেখলেন মৃত স্ত্রী-সন্তানের মুখ

৫০ পর্যন্ত গুনতে না পারায় ৪ বছরের কন্যাকে পিটিয়ে হত্যা করল বাবা

অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ ছাড়ল রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৯ ভারতীয় কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশলে বড় পরিবর্তন, চীন আর প্রধান হুমকি নয়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত