ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের যাবতীয় রাজনৈতিক অনাচারের হোতা, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছোট ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গত সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। এর আগে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।
একসময়ের ‘মহাক্ষমতাধর’ এই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর ফরিদপুর শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। তাঁরা বলেছেন, দীর্ঘদিন তিনি ফরিদপুরে যাবতীয় চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ফরিদপুরের আকাশ ‘মেঘমুক্ত’ হলো।
বাবরকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা, কোতোয়ালি থানার ওসি এম এ জলিল, ডিবির ওসি রাকিবুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই রুবেল-বরকতের বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক হওয়ার পেছনে বাবরের হাত ছিল। তিনি সরকারি দপ্তরের টেন্ডার বাণিজ্য এবং চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকাপয়সা আদায় করতেন। তাঁর ছত্রচ্ছায়ায় শহরে ‘হেলমেট বাহিনী’ ও ‘হাতুড়ি বাহিনী’ নামে দুটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছিল। এসব বাহিনীর সদস্যরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেড়াতেন। ফরিদপুরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিভিন্ন সময় যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাবরের নাম বলেছেন।
পুলিশ জানায়, ২ হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তাঁর ছোট ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি পুলিশ। মোহতেশাম হোসেন বাবর সেই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এ এইচ এম ফুয়াদ, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী, যুবলীগের নেতা আশিকুর রহমান ফারহান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, যুবলীগের নেতা কামরুল হাসান ডেভিড, মোহাম্মদ আলী মিনার ও তারিকুল ইসলাম নাসিম। এই ১০ আসামির মধ্যে যুবলীগের নেতা মোহাম্মদ আলী মিনার ও তারিকুল ইসলাম নাসিম এখনো পলাতক।
ফরিদপুরের বাসিন্দারা জানান, সাংসদ মোশাররফ হোসেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর ভাই বাবর একটি বিশেষ বলয় তৈরি করেন। সেই বলয়ে ছিলেন মন্ত্রীর এপিএস এইচ এম ফুয়াদ এবং রুবেল, বরকত। তাঁরা জেলার সড়ক ও জনপথ, পিডব্লিউডি, এলজিইডি, হেলথ, বিআরটিএ, পৌরসভা, বিদ্যুৎ, জেলা পরিষদ, ফ্যাসিলিটিজ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সব ধরনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও কমিশন বাণিজ্য শুরু করেন। এর পাশাপাশি জোর করে নিরীহ মানুষের জমি দখল করে নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করতে থাকেন। এভাবে তাঁরা বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তাঁরা জেলার রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ করতেও শুরু করেন।
এ অবস্থায় ২০২০ সালের ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলা হয়। ওই মামলার আসামি হিসেবে ২০২০ সালের ৭ জুন রাতে রুবেল, বরকতসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তারের পরই মুখ খুলতে শুরু করে ফরিদপুরের মানুষ। একের পর এক বেরিয়ে আসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের লোমহর্ষক কাহিনি। এই অভিযানের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের রাজনীতিতে খন্দকার মোশাররফ ও তাঁর ভাইয়ের আধিপত্যের অবসান হয়। এরপরই শান্ত হয় ফরিদপুর।

ফরিদপুরের যাবতীয় রাজনৈতিক অনাচারের হোতা, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছোট ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গত সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। এর আগে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।
একসময়ের ‘মহাক্ষমতাধর’ এই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর ফরিদপুর শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। তাঁরা বলেছেন, দীর্ঘদিন তিনি ফরিদপুরে যাবতীয় চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ফরিদপুরের আকাশ ‘মেঘমুক্ত’ হলো।
বাবরকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা, কোতোয়ালি থানার ওসি এম এ জলিল, ডিবির ওসি রাকিবুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই রুবেল-বরকতের বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক হওয়ার পেছনে বাবরের হাত ছিল। তিনি সরকারি দপ্তরের টেন্ডার বাণিজ্য এবং চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকাপয়সা আদায় করতেন। তাঁর ছত্রচ্ছায়ায় শহরে ‘হেলমেট বাহিনী’ ও ‘হাতুড়ি বাহিনী’ নামে দুটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছিল। এসব বাহিনীর সদস্যরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেড়াতেন। ফরিদপুরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিভিন্ন সময় যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাবরের নাম বলেছেন।
পুলিশ জানায়, ২ হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তাঁর ছোট ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি পুলিশ। মোহতেশাম হোসেন বাবর সেই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এ এইচ এম ফুয়াদ, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী, যুবলীগের নেতা আশিকুর রহমান ফারহান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, যুবলীগের নেতা কামরুল হাসান ডেভিড, মোহাম্মদ আলী মিনার ও তারিকুল ইসলাম নাসিম। এই ১০ আসামির মধ্যে যুবলীগের নেতা মোহাম্মদ আলী মিনার ও তারিকুল ইসলাম নাসিম এখনো পলাতক।
ফরিদপুরের বাসিন্দারা জানান, সাংসদ মোশাররফ হোসেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর ভাই বাবর একটি বিশেষ বলয় তৈরি করেন। সেই বলয়ে ছিলেন মন্ত্রীর এপিএস এইচ এম ফুয়াদ এবং রুবেল, বরকত। তাঁরা জেলার সড়ক ও জনপথ, পিডব্লিউডি, এলজিইডি, হেলথ, বিআরটিএ, পৌরসভা, বিদ্যুৎ, জেলা পরিষদ, ফ্যাসিলিটিজ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সব ধরনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও কমিশন বাণিজ্য শুরু করেন। এর পাশাপাশি জোর করে নিরীহ মানুষের জমি দখল করে নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করতে থাকেন। এভাবে তাঁরা বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তাঁরা জেলার রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ করতেও শুরু করেন।
এ অবস্থায় ২০২০ সালের ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলা হয়। ওই মামলার আসামি হিসেবে ২০২০ সালের ৭ জুন রাতে রুবেল, বরকতসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তারের পরই মুখ খুলতে শুরু করে ফরিদপুরের মানুষ। একের পর এক বেরিয়ে আসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের লোমহর্ষক কাহিনি। এই অভিযানের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের রাজনীতিতে খন্দকার মোশাররফ ও তাঁর ভাইয়ের আধিপত্যের অবসান হয়। এরপরই শান্ত হয় ফরিদপুর।

মাদারীপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস একটি অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
৫ মিনিট আগে
একের পর এক বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের। এবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে এক শিক্ষকের টাঙানো ব্যানার খুলে নিজের ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করেন রাকসুর এই নেতা।
৪২ মিনিট আগে
রংপুরের বদরগঞ্জে তিন দিন আগে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দী নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহত নারীর নাম মোছা. রিয়া। তিনি একজন পোশাককর্মী বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। আজ রোববার দুপুরে পুলিশ তাঁর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে।
১ ঘণ্টা আগে
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে জালিয়াতি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে সংস্থাটি।
২ ঘণ্টা আগে