Ajker Patrika

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে টানানো ব্যানার সরিয়ে আম্মারের ভিডিও পোস্ট

রাবি প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২২: ১১
বিএনপিপন্থী শিক্ষকের ব্যানার সরিয়ে আম্মারের ভিডিও পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপিপন্থী শিক্ষকের ব্যানার সরিয়ে আম্মারের ভিডিও পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত

একের পর এক বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের। এবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে এক শিক্ষকের টাঙানো ব্যানার খুলে নিজের ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করেন রাকসুর এই নেতা।

আজ রোববার বেলা আড়াইটার দিকে ব্যানার খোলার ভিডিওটি পোস্ট করেন সালাহউদ্দিন আম্মার। এর আগে আরেক পোস্টে বেলা ২টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ব্যানার খুলে নেওয়ার আলটিমেটাম দেন তিনি।

পোস্টে আম্মার লেখেন, ‘সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে দৃষ্টি আকর্ষণ করে ২টার মধ্যে ব্যানার অপসারণ করতে আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু উনি অপসারণ করেননি। তাই শিক্ষার্থী হিসেবে নিজে ছিঁড়ে দিলাম। ক্যাম্পাসে দলীয় ব্যানারে রাজনীতির যতগুলো উপসর্গ যখনই পাব শিক্ষকদের তখনই বিরোধিতা করব। শিক্ষক রাজনীতি শিক্ষার মাথা খেয়ে একেকজনকে পলিটিক্যাল দালাল বানাইয়া রাখছে।’

আম্মার আরও বলেন, ‘অন্য আরেকটি দল জামায়াতে ইসলামীর জন্যও একই বার্তা তবে তারা ক্যাম্পাসে দলীয় ব্যানারে এখন পর্যন্ত একটা বিবৃতিও দেয়নি, মিছিল মিটিং করেনি এমনকি তাদের দলীয় পরিচয় এই ক্যাম্পাসে আমি পাইনি এখনো। আপনারা যেকোনো দল করেন, রাজনীতি করেন তবে সেটা ক্যাম্পাসের বাইরে।’

শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ চান, কিন্তু এর নেপথ্যে থাকে ভয়াবহ শিক্ষক রাজনীতি, তাই এই শিক্ষক রাজনীতি নিয়ে সবার আগে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘তার এই ঘৃণ্য কাজে ধিক্কার জানানো ছাড়া আমার আর কোনো ভাষা জানা নেই।  

‘তারেক রহমানের আগমন ঐক্যের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। গোটা জাতি এখন তাঁর পানে তাকিয়ে মুখিয়ে আছে। এমন একজন চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানিয়ে আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জিয়া পরিষদের সভাপতি অভিনন্দন জানিয়েছি। তো এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কোনো ক্ষতি হবে?’  

ড. মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘এসব ছাত্র নামে কলঙ্ক। সে লেখাপড়া বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছে। যারা মূলত মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দল, তারা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন এই জাতীয়তাবাদী দলকে শেষ করতে চায়। তবে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে চাই না। ১২ তারিখের পরে দেশ কোন দিকে যাবে, সেটার দিকেই তাকিয়ে আছি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমি মৌখিকভাবে কোনো কিছুই জানি না। তবে ফেসবুকে দেখলাম, কেউ যদি ব্যানার লাগায় আবার কেউ যদি সরায়, সে ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিঘ্ন ঘটছে কি না, এই জিনিসগুলো আমাকে জানতে হবে। যদি কোনো কিছু নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে, সেটা আমরা অবশ্যই দেখব, যে-ই হোক না কেন, তার সঙ্গে কথা বলব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত