Ajker Patrika

ইউরোপে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮০ পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা, বিচারের দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ইউরোপে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮০ পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা, বিচারের দাবি
মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের আটক ও বিচার দাবিতে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়ে ফরিদপুরে অন্তত ৮০টি পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জাল ভিসা দিয়ে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। চক্রটি প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে ৮ থেকে ১২ লাখ করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। বর্তমানে ওই চক্রের প্রধান গা ঢাকা দিয়েছেন বলে তাঁরা জানান।

আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন প্রায় ২০ জন ভুক্তভোগী। তাঁরা সবাই নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ও ডাঙ্গী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা লস্করদিয়া ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামের মিলু কাজীর ছেলে ইমরান কাজী ও ইলিয়াস কাজীর বিরুদ্ধে এই প্রতারণার অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দুই বছর আগে কিরগিজস্তানপ্রবাসী ইমরান কাজী এলাকায় ফিরে স্থানীয় যুবকদের ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখান। তাঁর কথা অনুযায়ী অনেকে সর্বস্ব বিক্রি করেন এবং কিস্তিতে টাকা ধার নিয়ে ৮ থেকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সার্বিয়া, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের পথে পাড়ি জমান। কিন্তু তাঁদের নির্দিষ্ট দেশে না নিয়ে কিরগিজস্তানে নিয়ে রাখা হয়। এরপর সেখান থেকে পাকিস্তানি একটি চক্রের হাতে তাঁদের তুলে দেওয়া হয়। ওই চক্র নির্যাতন করে টাকা আদায়সহ জাল ভিসা দিয়ে হয়রানি করে।

এ ছাড়া ৬ থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত টাকা নিয়েও বিদেশে পাঠানো হয়নি বলে দাবি করেন একাধিক ভুক্তভোগী। এ সময় তাঁরা চক্রটির হাতে টাকা তুলে দেওয়ার ভিডিও উপস্থাপনসহ ব্যাংকে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণপত্র তুলে ধরেন।

৮ লাখ টাকা খরচ করে ২০২৪ সালের জুনে সার্বিয়া যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি ছেড়েছিলেন উপজেলার লস্করিদয়া ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামের ইকরাম শিকদার। মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, তাঁকেসহ কয়েকজনকে কিরগিজস্তান নিয়ে একটি কক্ষে চার মাস আটক করে রাখা হয়। এরপর অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে তা না দেওয়ায় প্রতিনিয়ত নির্যাতন চলে তাঁদের ওপর। একপর্যায়ে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে দেড় বছর পর দেশটির পুলিশের হাতে ধরা দিয়ে দেশে ফেরত আসেন তিনি।

কাজী তারিকুল ইসলাম নামের ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী যুবক অভিযোগ করে বলেন, ‘জমিজমা বিক্রি করে স্পেন যাওয়ার উদ্দেশে ইমরানকে প্রায় ১২ লাখ টাকা দিই। কিন্তু কিরগিজস্তান নিয়ে আমাকে ছয় মাস আটকে রাখা হয়। এরপর সেখান থেকে মরক্কোর উদ্দেশে বিমানে তুলে দেওয়া হলেও সেনেগাল ইমিগ্রেশন পুলিশ আমাকে আটক করে। তারা জানায়, আমার কাছে যে ভিসা ও কাগজপত্র রয়েছে, তা ভুয়া। পরে দুদিন আটকে রেখে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় আমাকে।’

ইকরাম শিকদার ও তারিকুল ইসলামের মতো এভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ওই এলাকার অনেকেই। সর্বস্ব হারিয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাঁরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং টাকা ফেরতসহ চক্রটির বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে কথা হয় ইমরান কাজীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি কিরগিজস্তানে থাকাকালে অনেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই সুবাদে প্রত্যেককেই বৈধভাবে দেশটিতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় একটি কুচক্রী মহল দেড় বছর পর এসে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলে এই মানববন্ধন করেছে। আমার বিরুদ্ধে কেউ যদি টাকা নেওয়ার উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে প্রত্যেককে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জ্বালানি সংকট: উপচে পড়ছে সব ডিপো, তবু তেল নিয়ে হাহাকার

সুদানে পাকিস্তানের ১.৫ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধবিমান বিক্রি আটকে দিল সৌদি

নওগাঁয় চার খুন: নেপথ্যে সম্পত্তির বিরোধ নাকি অন্য কিছু, পুলিশি হেফাজতে বাবা, দুই বোন ও ভাগনে

নওগাঁয় স্বামী-স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা

প্রচণ্ড গরমে হোটেলের এসি কামরা ভাড়া নিলেন নারী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত