Ajker Patrika

কোনো বাধাই থামাতে পারছে না ঘরমুখী মানুষের স্রোত, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ধুম

জহিরুল আলম পিলু 
কোনো বাধাই থামাতে পারছে না ঘরমুখী মানুষের স্রোত, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ধুম
ঈদের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে উপভোগ করতে গ্রামের উদ্দেশে রাজধানী ছাড়ছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র দুই দিন। ঈদের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে উপভোগ করতে গ্রামের উদ্দেশে রাজধানী ছাড়ছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। গতকাল সোমবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় আজ মঙ্গলবার বাড়ি যেতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, যাত্রাবাড়ী মোড়ের অস্থায়ী টার্মিনাল, ধোলাইপাড় মোড় বাস কাউন্টার ও শহরের ছোট বাসস্ট্যান্ডগুলোয় মানুষের ঢল নেমেছে। ঘরমুখী মানুষের এই স্রোত বাধা, অনিয়ম, অতিরিক্ত ভাড়া কিংবা বৃষ্টি—কোনো কিছুই থামাতে পারছে না।

আজ সকাল থেকে টার্মিনালগুলোতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। সরেজমিনে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, কচুয়া, নোয়াখালীসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যাত্রীদের স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। তাঁদের বাস পেতে তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি। তবে কুমিল্লা লাইনের বাসের কিছুটা সংকট দেখা গেছে।

অন্যদিকে, ঢাকা-মাওয়া সড়কেও দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের বাস পেতে বিলম্ব হতে দেখা যায়। ঢাকা-ফরিদপুর সড়কের যাত্রী জয়নাল বলেন, ‘আমি গোল্ডেন লাইন বাসের টিকিট নিয়েছি। ২টায় বাস ছাড়ার কথা। সেই বাস এক ঘণ্টা পরে এসেছে।’ এ ছাড়া হানিফ, শ্যামলী, ইউনিক, সাকুরা, সৌদিয়া, সেন্ট মার্টিন বাসের শিডিউল বিপর্যয়ের অভিযোগ করেন অনেক যাত্রী।

এদিকে পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সাধারণ সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। সায়েদাবাদ এলাকায় বরিশালগামী যাত্রী মাহিন বলেন, সাধারণ সময়ে যেখানে ভাড়া ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, সেখানে এখন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে নড়াইল এক্সপ্রেসের টিকিট নিয়েছেন আরেক যাত্রী শাহিন। তাঁর কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছে ৬০০ টাকা, অথচ সাধারণ সময়ে এই ভাড়া ছিল ৪০০ টাকা। শরীয়তপুরগামী গার্মেন্টস কর্মী সবুজ জানান, শরীয়তপুর সার্ভিসে তাঁর কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে ৭০০ টাকা, যা আগে ছিল ৩০০ টাকা। মাগুরাগামী যাত্রী সাহানা অভিযোগ করে বলেন, গোল্ডেন লাইন বাসে তাঁর কাছে ভাড়া নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা, যার স্বাভাবিক ভাড়া ৫০০ টাকা।

যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বাড়তি ভাড়া আদায় করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কিন্তু তাঁর কথা কেউ শুনছে না। সরকারেরও কোনো মনিটরিং আছে বলে মনে হচ্ছে না।

অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কথা স্বীকার করে পরিবহনশ্রমিকেরা বলেন, যাওয়ার পথে যাত্রী নিয়ে গেলেও আসার সময় বাস খালি নিয়ে ফিরতে হয়। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আজাদ রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে ২৬ জনকে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করেছি। আর যানজট নিরসনে রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত