
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসেও আজ রাজধানীতে নিত্য দিনের মতোই চলাচল করছে গণপরিবহনগুলো। সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় সড়কে তেমন যানজট না থাকলেও প্রতিদিনের মতোই বাসগুলো থেকে যাত্রীদের জন্য চলছে সেই চেনা ডাক–হাঁক। তেজগাঁওয়ের সড়কে মন্থর গতিতে চলা ‘ভিআইপি’ বাস থেকে কিশোর কণ্ঠে মিরাজ (ছদ্মনাম) ডাকছিল...‘এই ঢাকা কলেজ...নীলক্ষেত...আজিমপুর...ওই ওস্তাদ বেরেক–যাত্রী আছে।’
মিরাজ বাসচালকের সহকারী, হেলপার! বয়স ১৪–১৫ হবে। বাসে সিট না পেয়ে ভেতরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল তার সঙ্গে। কালক্ষেপণ, সেই সঙ্গে কৌতূহলী মনে শ্রমিক দিবস নিয়ে প্রশ্ন করতে ঝরঝরে কণ্ঠে উত্তরে মিরাজ বলল–‘আইজকা ছুটি তাই না মামা?’ এটুকুতে যা বুঝলাম তাতে অন্তত এক মিরাজের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে কথা বাড়ানোটা আদিক্ষেতা মনে হলো!
বরং মিরাজের দৈনন্দিন সম্পর্কে জানতে চাইলাম। সে জানাল, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রী ওঠানো-নামানো, ভাড়া তোলা, যাত্রী ডাকাডাকি সবই করে সে। আর এই পুরো সময়টা টানা দাঁড়িয়ে করতে হয়।

তার ভাষায় ‘সকাল থেইকা রাত পর্যন্ত কাম করি, দাঁড়ায়া থাকতে থাকতে পায় ব্যতা ধইরা যায়। দিন শ্যাষে পাই ৫০০।’
দেশে শিশুশ্রমের বিষয়ে শাস্তিযোগ্য বিধান থাকলেও সেগুলোর তো বালাই চোখে পড়ে না। রাজধানীর যে কোনো এলাকার সড়কে চারপাশে একবার চোখ ঘুরালেই কোথাও না কোথাও শিশুশ্রমিক চোখে পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
কিন্তু তার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রেও অন্যায় হয় বলে অভিযোগ করল মিরাজ। জানাল, একই পরিবহনের বাসে কাজ করা বড়দের তুলনায় সে কম মজুরি পায়। এর কারণ হলো সে বয়সে ছোট। প্রাপ্তবয়স্করা যেখানে দৈনিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন, সেখানে সে আটকা নির্ধারিত ৫০০ টাকাতেই।
নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে মিরাজ জানাল, ১২ বছর বয়সে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় আসে। দূর সম্পর্কের মামার মাধ্যমে এই কাজে যুক্ত হয়। পরিবারের অভাব-অনটনই তাকে অল্প বয়সে জীবিকার সন্ধানে নামতে বাধ্য করেছে।
মিরাজ বলেছে, ‘গেরামে থাকলে খাওন জুটতো না ঠিকমতো। তখন ঢাকায় আইসা এই কাজ ধরি। এখন নিজে চলি, বাড়িতেও কিছু দেই।’
দীর্ঘ সময় কাজ, বিশ্রামের অভাব, স্বল্প আয়—এ সবের মাঝেও নিজের জীবন নিয়ে খুব বেশি অভিযোগ নেই তার। বলল, ‘আমি খুশিই আছি। কাম করি, খাই। দুঃখ কইরা কি হইব?’
এতক্ষণ অগোচরে বাসচালকও আমাদের কথোপকথন শুনছিলেন। একপর্যায়ে তিনি আওয়াজ দিয়ে বললেন, ‘আমরা কি করমু মামা বলেন, অরাও নেয়, আমরাও নেই—এইভাবেই তো চলে।’
মিরাজের অভিযোগ ও বাস্তবতার দায় মেনে নিলেন তিনিও। বললেন, ‘ছোটদের কম দেয়, এইটা ঠিক। কিন্তু এই দায় শুধু আমাদের দিলে হবে না মামা, বাসের মালিক–নেতা দায় তো সবারই তাই না?’
প্রশ্নের উত্তর ভাবতে ভাবতেই নেমে পড়তে হলো গন্তব্যে। তবে আজকের দিনেও ছুটি পায়নি শিশুশ্রমিক মিরাজ!

ইতালিতে বসবাসরত মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর এক যুবক তাঁর ছোট ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি ছোট ভাইকে হত্যার পর মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে রক্তাক্ত লাশ তাঁর পরিবারকেও দেখিয়েছেন। ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় লিসচে শহরে স্থানীয় সময় গত বুধবার রাত ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
৩১ মিনিট আগে
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ভাইভা ফাইনাল পরীক্ষায় লুঙ্গি পরে, গামছা কাঁধে নিয়ে হাজির হন আশিকুর রহমান আশিক নামের এক শিক্ষার্থী; যা এ দেশের মেহনতি মানুষের পোশাক।
১ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশু মারা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে আজ শুক্রবার (১ মে) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। এই সময়ে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন)...
১ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যাঁরা শাহাদাত বরণ করেছেন, তাঁদের অধিকাংশই শ্রমিক বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ শুক্রবার যশোর জেলা প্রশাসন আয়োজিত মহান মে দিবস উপলক্ষে র্যালি-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।
১ ঘণ্টা আগে