Ajker Patrika

‘দাঁড়ায়া থাকতে থাকতে পায় ব্যতা ধইরা যায়’

প্রতিনিধি ঢাবি  
আপডেট : ০১ মে ২০২৬, ১৮: ৫৩
‘দাঁড়ায়া থাকতে থাকতে পায় ব্যতা ধইরা যায়’
হাস্যোজ্জ্বল মুখে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে শিশুশ্রমিক মিরাজ। ছবি: আজকের পত্রিকা

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসেও আজ রাজধানীতে নিত্য দিনের মতোই চলাচল করছে গণপরিবহনগুলো। সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় সড়কে তেমন যানজট না থাকলেও প্রতিদিনের মতোই বাসগুলো থেকে যাত্রীদের জন্য চলছে সেই চেনা ডাক–হাঁক। তেজগাঁওয়ের সড়কে মন্থর গতিতে চলা ‘ভিআইপি’ বাস থেকে কিশোর কণ্ঠে মিরাজ (ছদ্মনাম) ডাকছিল...‘এই ঢাকা কলেজ...নীলক্ষেত...আজিমপুর...ওই ওস্তাদ বেরেক–যাত্রী আছে।’

মিরাজ বাসচালকের সহকারী, হেলপার! বয়স ১৪–১৫ হবে। বাসে সিট না পেয়ে ভেতরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল তার সঙ্গে। কালক্ষেপণ, সেই সঙ্গে কৌতূহলী মনে শ্রমিক দিবস নিয়ে প্রশ্ন করতে ঝরঝরে কণ্ঠে উত্তরে মিরাজ বলল–‘আইজকা ছুটি তাই না মামা?’ এটুকুতে যা বুঝলাম তাতে অন্তত এক মিরাজের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে কথা বাড়ানোটা আদিক্ষেতা মনে হলো!

বরং মিরাজের দৈনন্দিন সম্পর্কে জানতে চাইলাম। সে জানাল, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রী ওঠানো-নামানো, ভাড়া তোলা, যাত্রী ডাকাডাকি সবই করে সে। আর এই পুরো সময়টা টানা দাঁড়িয়ে করতে হয়।

মিরাজ । ছবি: আজকের পত্রিকা
মিরাজ । ছবি: আজকের পত্রিকা

তার ভাষায় ‘সকাল থেইকা রাত পর্যন্ত কাম করি, দাঁড়ায়া থাকতে থাকতে পায় ব্যতা ধইরা যায়। দিন শ্যাষে পাই ৫০০।’

দেশে শিশুশ্রমের বিষয়ে শাস্তিযোগ্য বিধান থাকলেও সেগুলোর তো বালাই চোখে পড়ে না। রাজধানীর যে কোনো এলাকার সড়কে চারপাশে একবার চোখ ঘুরালেই কোথাও না কোথাও শিশুশ্রমিক চোখে পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

কিন্তু তার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রেও অন্যায় হয় বলে অভিযোগ করল মিরাজ। জানাল, একই পরিবহনের বাসে কাজ করা বড়দের তুলনায় সে কম মজুরি পায়। এর কারণ হলো সে বয়সে ছোট। প্রাপ্তবয়স্করা যেখানে দৈনিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন, সেখানে সে আটকা নির্ধারিত ৫০০ টাকাতেই।

নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে মিরাজ জানাল, ১২ বছর বয়সে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় আসে। দূর সম্পর্কের মামার মাধ্যমে এই কাজে যুক্ত হয়। পরিবারের অভাব-অনটনই তাকে অল্প বয়সে জীবিকার সন্ধানে নামতে বাধ্য করেছে।

মিরাজ বলেছে, ‘গেরামে থাকলে খাওন জুটতো না ঠিকমতো। তখন ঢাকায় আইসা এই কাজ ধরি। এখন নিজে চলি, বাড়িতেও কিছু দেই।’

দীর্ঘ সময় কাজ, বিশ্রামের অভাব, স্বল্প আয়—এ সবের মাঝেও নিজের জীবন নিয়ে খুব বেশি অভিযোগ নেই তার। বলল, ‘আমি খুশিই আছি। কাম করি, খাই। দুঃখ কইরা কি হইব?’

এতক্ষণ অগোচরে বাসচালকও আমাদের কথোপকথন শুনছিলেন। একপর্যায়ে তিনি আওয়াজ দিয়ে বললেন, ‘আমরা কি করমু মামা বলেন, অরাও নেয়, আমরাও নেই—এইভাবেই তো চলে।’

মিরাজের অভিযোগ ও বাস্তবতার দায় মেনে নিলেন তিনিও। বললেন, ‘ছোটদের কম দেয়, এইটা ঠিক। কিন্তু এই দায় শুধু আমাদের দিলে হবে না মামা, বাসের মালিক–নেতা দায় তো সবারই তাই না?’

প্রশ্নের উত্তর ভাবতে ভাবতেই নেমে পড়তে হলো গন্তব্যে। তবে আজকের দিনেও ছুটি পায়নি শিশুশ্রমিক মিরাজ!

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এপস্টেইন দ্বীপের রহস্যময় ‘মসজিদ’: পবিত্র কাবার গিলাফ ও কিসওয়া চুরির তথ্য ফাঁস

ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, ৮ দিন পরে মামলা

ব্যাচেলর পয়েন্টে যুক্ত হলেন নেপালি অভিনেত্রী

একটি দেশ বাদে পুরো আফ্রিকার জন্য চীনের ‘শূন্য শুল্ক’, কার কী লাভ

বোনের ক্যারিয়ার বাঁচাতে তদবির করেছেন প্রিয়াঙ্কা, তাঁর পরামর্শেই বিজেপিতে রাঘব!

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত