Ajker Patrika

‘প্রতিদিন এই ওয়ার্ডে শিশু মারা যাচ্ছে, আমারও বুক কেঁপে উঠছে’

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
‘প্রতিদিন এই ওয়ার্ডে শিশু মারা যাচ্ছে, আমারও বুক কেঁপে উঠছে’
মা হেলেনা আক্তারের কোলে আট মাস বয়সী শিশু তাজনিম। নাক দিয়ে চলছে অক্সিজেন সরবরাহ। পাশে বসে থাকতে দেখা যায় শিশুটির বাবা ইসলাম উদ্দিনকে। আজ শুক্রবার মমেক হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশু মারা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে আজ শুক্রবার (১ মে) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। এই সময়ে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৪ শিশু ভর্তি হয়েছে।

মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট চিকিৎসা নিয়েছে ৯৯৬ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯১১ জন এবং মারা গেছে ২২ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছে ২৪ শিশু এবং সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছে ২৮ জন। এই সময় এক শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬৩ শিশু।

শুক্রবার সকালে হাসপাতালের হামের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, আট মাস বয়সী মেয়েশিশু তাজনিমকে কোলে নিয়ে চোখের পানি ফেলছেন মা হেলেনা আক্তার। শিশুটির নাক দিয়ে দেওয়া হচ্ছে অক্সিজেন। পাশে বসে থাকতে দেখা যায় শিশুটির বাবা ইসলাম উদ্দিনকে। গত মঙ্গলবার জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দত্ত গ্রামের এই দম্পতি তাঁদের শিশুকে নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়।

হেলেনা আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিন এই ওয়ার্ডে শিশু মারা যাচ্ছে। এতে আমারও বুক কেঁপে উঠছে। এখানে যদি আইসিইউর ব্যবস্থা থাকত, তাহলে এত শিশু মারা যেত না। নিজের মেয়েকে নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রাতদিন কাটছে।’

পাশের কেবিনে জেলার ফুলপুরের বাসিন্দা তাবাসসুম আক্তার হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ৯ মাস বয়সী ছেলে রাফসানকে নিয়ে ভর্তি হয়েছেন গত এক সপ্তাহ আগে। ছেলের অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকেরা ঢাকা যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তাবাসসুম আক্তার বলেন, ‘আমরা গরিব অসহায় মানুষ। ডাক্তার বলছে ছেলেকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য, কিন্তু টাকাপয়সা না থাকায় যেতে পারছি না। এখানে যদি উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকত তাহলে আমাদের মতো গরিবদের জন্য ভালো হতো।’

মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১০ মাস ও পাঁচ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১০ মাস বয়সী শিশুটি গত ২৫ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। মৃত শিশুটির বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায়। পাঁচ মাস বয়সী শিশুটি একই দিন সকালে মারা যায়। তাকে ২৯ এপ্রিল রাতে ভর্তি হয়েছিল। শিশুটির বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায়।

মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন আরও বলেন, ‘যেসব শিশু হামের উপসর্গের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত, সেসব শিশু বেশি মারা যাচ্ছে। তবে আইসিইউ ব্যবস্থা থাকলে হয়তো মৃত্যুর হার আরও কম হতো। আমাদের একটি নতুন ভবন হচ্ছে। সেখানে পাঁচ শয্যার আইসিইউ করার প্রস্তাব রয়েছে। সেটি হলে এই অঞ্চলের শিশুরা আরও ভালো সেবা পাবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এপস্টেইন দ্বীপের রহস্যময় ‘মসজিদ’: পবিত্র কাবার গিলাফ ও কিসওয়া চুরির তথ্য ফাঁস

ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, ৮ দিন পরে মামলা

একটি দেশ বাদে পুরো আফ্রিকার জন্য চীনের ‘শূন্য শুল্ক’, কার কী লাভ

ব্যাচেলর পয়েন্টে যুক্ত হলেন নেপালি অভিনেত্রী

বোনের ক্যারিয়ার বাঁচাতে তদবির করেছেন প্রিয়াঙ্কা, তাঁর পরামর্শেই বিজেপিতে রাঘব!

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত