Ajker Patrika

কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার চক্রের মূল হোতা গ্রেপ্তার: সিআইডি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৬: ১৮
কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার চক্রের মূল হোতা গ্রেপ্তার: সিআইডি
কম্বোডিয়ায় নারী পাচারের অভিযোগে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানা এলাকা থেকে মো. রুবেলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ছবি: সংগৃহীত

কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে পাচারের পর তাঁর পাসপোর্ট ছিনিয়ে নেওয়া, অর্থ আত্মসাৎ এবং শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মো. রুবেল (২৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মো. রুবেল মানব পাচার চক্রের মূল হোতা উল্লেখ করে সিআইডি জানায়, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানা এলাকা থেকে সিআইডির মানব পাচার শাখার (টিএইচবি) একটি দল রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। তিনি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার খাগজানা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আর্থিক সংকটে থাকা ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার সময় রুবেলের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে রুবেল তাঁকে কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখান। বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রথমে এনজিও থেকে নেওয়া এক লাখ টাকা এবং পরে বিভিন্ন সময়ে আরও অর্থসহ মোট চার লাখ টাকা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর পাসপোর্টও সংগ্রহ করা হয়।

সিআইডি জানায়, ২০২৫ সালের আগস্টে ভুক্তভোগীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রের সদস্যরা তাঁর পাসপোর্ট ও সঙ্গে থাকা অর্থ ছিনিয়ে নেয়। পরে তাঁকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করে অনিচ্ছাকৃত কাজ করানো হয়। চক্রটি ওই নারীর উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করে। এ ছাড়া বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি প্রাণনাশ ও অন্য দালালের কাছে বিক্রির হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি আরও জানায়, পরবর্তী সময়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও মানবিক সংস্থার সহায়তায় চলতি বছরের ১ জুলাই দেশে ফিরে আসেন ভুক্তভোগী। এরপর তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের আদেশে তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জবানবন্দি ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মানব পাচার চক্রের অন্য সদস্য, আর্থিক লেনদেন, বিদেশে অবস্থানরত সম্ভাব্য ভুক্তভোগী এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এই চক্রের মাধ্যমে আরও কোনো বাংলাদেশি একইভাবে পাচারের শিকার হয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত