Ajker Patrika

কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন: খরচ বেশি, স্থায়ী হতে পারে ২০ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন: খরচ বেশি, স্থায়ী হতে পারে ২০ বছর

দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রচেষ্টায় দেশে প্রথমবারের মতো মেকানিক্যাল হার্ট ইমপ্লান্ট বা কৃত্রিমভাবে হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে খরচ পড়েছে সোয়া কোটি টাকার বেশি। তবে একেবারে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনে ১৭ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত রোগী সুস্থ থাকতে পারেন। 

গতকাল বুধবার ইউনাইটেড হাসপাতালে ৪২ বছর বয়সী এক নারীর হৃৎপিণ্ডে এটি স্থাপন করা হয়। ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন শেষ পর্যায়ের বা তীব্র হার্ট ফেইলিওর নামক হৃৎপিণ্ডের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং দেশে বিদেশে নানা চিকিৎসার পরও তাঁর হৃৎপিণ্ড প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ছিল। 

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সাড়ে ৩টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের প্রধান কার্ডিয়াক সার্জন ও কার্ডিয়াক সেন্টারের পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর কবির এসব কথা বলেন। 

ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘মেকানিক্যাল হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড বলতে আমরা বলতে পারি, দেশে এমন জটিল হৃৎপিণ্ডর রোগী রয়েছে তাদের হৃৎপিণ্ড প্রায় নিষ্ক্রিয়। তাঁদের হৃৎপিণ্ড সক্রিয় করতে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস বসানো হয়। যারা মাধ্যমে হৃৎপিণ্ড সচল হয়ে ওঠে।’ 

জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘দেশে এমন অনেক হৃৎপিণ্ডের রোগী রয়েছে, যারা মাসে তিন থেকে চারবার হৃৎপিণ্ড জড়িত জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হন এবং অনেক রোগী রয়েছেন যারা সব সময় বাসায় অবস্থান করেন। এসব রোগীদের চিকিৎসার মাধ্যমে সহজেই সুস্থ করে তোলা সম্ভব। গতকাল আমরা এক ৪২ বছর নারীর শরীরে সফলভাবে সম্পন্ন কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করেছি। তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তবে এই কাজ এক দিনে সম্ভব হয়নি। এই স্বপ্ন বাস্তবতা করতে ১৫ বছর সময় লাগছে। এর আগে একটা রোগীকে এই পদ্ধতিতে ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো-প্রতিস্থাপনের আগেই তিনি মারা যান। এমন অনেকে ঘটনা ঘটছে। তবে আমরা অনেক কষ্ট ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই কাজের আলোর মুখ দেখলাম।’ 

এই চিকিৎসক বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে এর একমাত্র চিকিৎসা আরেকটি সুস্থ হার্ট দিয়ে প্রায় অকার্যকর হার্টটি প্রতিস্থাপন। তবে যদি সুস্থ হার্ট না পাওয়া যায় কিংবা পেতে দেরি হচ্ছে এবং হার্টের অবস্থা যদি দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে তবে মেকানিক্যাল হার্ট ইমপ্লান্ট স্থাপন করা হয়। এতে রোগীর হার্ট কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং সমস্ত শরীরের রক্ত চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। ফলে শরীরে অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যেমন কিডনি, লিভার ইত্যাদি সেরে ওঠার সুযোগ পায়। 

জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘তীব্র হার্ট ফেইলিওরে আক্রান্ত কিছু রোগী হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের উপযুক্ত না হলে তাদের জন্য একমাত্র বিকল্প এই ব্যবস্থা। যা স্থাপনের মাধ্যমে রোগী বাকি জীবন সুস্থভাবে অতিবাহিত করতে পারেন। আশা করা যাচ্ছে এর মাধ্যমে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি অনেক কমে আসবে এবং হার্ট ফেইলিওরের লক্ষণ সমূহের উন্নতি ঘটবে।’ 

বর্তমানে সারা বিশ্বে কোটির বেশি মানুষ জটিল এই রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে এশিয়ায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব ১ দশমিক ২৬ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত