Ajker Patrika

শিশু অপহরণ-হত্যা: ১৪ বছর পর তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১৮: ২৬
শিশু অপহরণ-হত্যা: ১৪ বছর পর তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন
ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে আট বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যা মামলায় ১৪ বছর পর তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মাহমুদা খানম উষা ও বিল্লাল শেখ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে প্রতিবেশী আসামিরা মাহফুজকে অপহরণ করেন। পরে তাঁরা শিশুটির পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেয়ে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখার পর ২০১২ সালের ২০ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনিবাগানে ফেলে রাখা হয়।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, মাহফুজের বাবা ইতালিপ্রবাসী ছিলেন এবং আসামিদের সঙ্গে তাঁদের পূর্বশত্রুতা ছিল।

ওই ঘটনায় ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নিজাম শিকদার পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই ঘটনায় জড়িত দুই নাবালকের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে দোষীপত্র দেওয়া হয়।

মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আটজন সাফাই সাক্ষ্য দেন।

এর আগে একই মামলায় দুই নাবালক আসামিকে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর ১০ বছর করে আটকাদেশ দিয়েছিলেন আদালত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত