
জিয়াউল আহসান মেজর অবস্থায় ২০০৯ সালে র্যাবে পোস্টিং হওয়ার পর তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ফলে তাঁকে ২০২৪ সালে মেজর জেনারেল হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসর লাভকালীন সময় পর্যন্ত কখনোই সেনাবাহিনীতে ফেরত যেতে হয়নি। তিনি সব সময়ই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন বাহিনী বা সংস্থায় কাজ করেছেন।
পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কোর্স বা প্রশিক্ষণ না নিয়ে ও কোনো ব্যাটালিয়ন, ব্রিগেড বা ফরমেশন কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই জিয়াউল আহসান মেজর জেনারেল পর্যন্ত পদোন্নতি পান। যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় পেশাদারত্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।
আজ বৃহস্পতিবার শতাধিক ব্যক্তিকে গুম-খুন ও নির্যাতনের ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে রফিকুল ইসলাম জবানবন্দি দেন।
রফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তকালে ভিকটিম পরিবারের সদস্য, সাক্ষীদের জবানবন্দি, জব্দ করা আলামত, পত্রপত্রিকা, ভিডিও ফুটেজ, দেশীয় তদন্ত সংস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছেন। তাতে দেখা যায়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় প্রকাশ্যে রাজপথে লগি-বইঠার তাণ্ডব হয়। নৃত্যের মাধ্যমে মানুষ হত্যা ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে না দিয়ে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে ষড়যন্ত্রমূলক নীলনকশার নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী ও নিষ্কণ্টক করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা সরকার রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে ব্যবহার করেছিল বিরোধী রাজনৈতিক দল, মত ও পথ দমন এবং নির্মূলে। শেখ হাসিনা সরকার বিরোধীমত দমনে যেসব পন্থা নিয়েছিল ,তার অন্যতম ছিল বলপূর্বক অপহরণ, আটক, গুম, হত্যা ও নির্যাতন। গড়ে তোলা হয়েছিল ভয়ের সংস্কৃতি।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত বলপূর্বক অপহরণ, আটক, গুম ও নির্যাতনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। অপরাধীদের দেওয়া হয়েছিল দায়মুক্তি। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দুর্বলতা, জবাবদিহির অভাব, স্বাধীন বিচারব্যবস্থার অনুপস্থিতি ও অনুগত বিচারকদের মাধ্যমে সরকারের অনুকূলে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা হয়েছিল। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ, অনুমোদন ও অবগতিতে জিয়াউল আহসান এবং তাঁর মতো একশ্রেণির পদলেহী, দানব কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা, সরাসরি অংশগ্রহণ, নির্দেশনায় ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম, অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিল শেখ হাসিনা সরকার। যা ছিল পদ্ধতিগতভাবে, ব্যাপকতায় ও লক্ষ্য নির্ধারণপূর্বক সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ। এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন জিয়াউল আহসান।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, জিয়াউল আহসান আইন ও বিচারের তোয়াক্কা না করে সজল, সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিক, ফিশিং বোটমালিক আলকাছ মল্লিক, মামুন ওরফে মাসুদ, মান্নন, জিহাদ, সোহাগ, আল আমিন, আসাদ, বেলাল, শিশির কুমার মণ্ডল ওরফে মন্টু মেম্বার, বাচ্চু, জামাল মুন্সিসহ কমপক্ষে ১৫০ জনকে হত্যা করেন, হত্যার নির্দেশ দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেন।
এদিকে জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একা গাড়িতে না আনতে আবেদন করা হয়েছে। ওই আবেদনের ওপর আজ শুনানি হয়। শুনানিতে জিয়াউল আহসানের বোন ও তাঁর আইনজীবী নাজনীন নাহার বলেন, প্রিজন ভ্যানে জিয়াউলকে একা আনা-নেওয়া করা বিপজ্জনক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ততটা ভালো নয়। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তাঁকে এককভাবে না এনে যেন অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা হয়।
অপর দিকে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম শুনানিতে বলেন, অন্য আসামিরা জীবননাশের আশঙ্কার কথা বলছেন না। প্রয়োজনে জিয়াউল আহসানকে কারাগারে রেখে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনার আবেদন করেন তিনি।

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাটের দুই প্রবাসী আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মরদেহ বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (বিজি-২০৬) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে অবতরণ করার পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কসহ সংশ্লিষ্ট
১৫ মিনিট আগে
মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী এসি বাস সড়কের ডিভাইডারে উঠে গেছে। এতে বাসটির কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়ামুখী লেনে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
৪২ মিনিট আগে
ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে এক বৃদ্ধার হাত-মুখ বেঁধে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর মেয়েকে চাপাতি ধরে জিম্মি করা হয়। ডাকাতেরা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
১ ঘণ্টা আগে
খাগড়াছড়িতে সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে খাগড়াছড়ি সদর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পানছড়ি উপজেলা দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা দল।
১ ঘণ্টা আগে