Ajker Patrika

রাজধানীর পশুর হাট: হাট প্রস্তুত, ক্রেতার অপেক্ষা

  • আজ থেকে আনুষ্ঠানিক বেচাকেনা শুরু
  • রাজধানীর বড় হাটগুলোয় দর্শনার্থীর ভিড়, ছোট হাটে লোকজন নেই
  • হাটে হাটে নিরাপত্তা জোরদার, প্রস্তুত হাসিল ঘর
সাখাওয়াত ফাহাদ, ঢাকা 
রাজধানীর পশুর হাট: হাট প্রস্তুত, ক্রেতার অপেক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে গরু, মহিষ, ছাগল ও দুম্বা নিয়ে ঢাকার হাটগুলোতে হাজির হচ্ছেন ব্যাপারীরা। বাঁশ আর ত্রিপল টাঙিয়ে পশুর জন্য ছাউনি তৈরি, হাসিল ঘর প্রস্তুত করাসহ সব মিলিয়ে হাটগুলো এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

আগামী বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে বড় বড় হাটে ইতিমধ্যে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আনাগোনা বেড়েছে।

তবে ছোট হাটগুলোতে জনসমাগম কিছুটা কম। আজ রোববার থেকে আনুষ্ঠানিক বেচাকেনা শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেও বেশ কিছু হাটে কেনাবেচা হচ্ছে। গত শনিবার রাজধানীর শাহজাহানপুর মৈত্রী ক্লাব-সংলগ্ন হাট, বাড্ডার স্বদেশ প্রপার্টির হাট, রামপুরার ইকরা মাদ্রাসা হাট ও মোস্তমাঝির আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের মাঠের হাটগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জামালপুর, শেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুড়িগ্রাম, নাটোর, ঝিনাইদহসহ উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে পশু নিয়ে এসব হাটে এসেছেন বেপারীরা। তাঁরা বলছেন, অধিকাংশই ঢাকা এসেছেন তিন দিন হয়ে গেছে। গরু দ্রুত বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে চান তাঁরা। রাজধানীর শাহজাহানপুর পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের প্রবেশমুখেই ট্রাক থেকে গরু নামানো হচ্ছে। কেউ কেউ কোরবানির পশুর দামদর করছেন। হাটকে কেন্দ্র করে বসেছে খড়-বিচালি, ঘাস-পাতা, গরুর মালা, খাবারের দোকান। এই হাটের মূল জায়গা ছেড়ে কলোনির বিভিন্ন জায়গায়ও বালু ফেলে বাঁশ বেঁধে রাখা হয়েছে পশু। ব্যাপারীরা সেরে নিচ্ছেন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

ঝিনাইদহ থেকে শাহজাহানপুর হাটে ১৪টি গরু নিয়ে এসেছেন শরিফ মিয়া। তাঁরা চার ভাই একসঙ্গে এসেছেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এখনো একটাও বেচতে পারিনি। কয়েকজন দামদর করি গেছে।’

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থেকে আসা আরেক ব্যাপারী মো. শামীম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই হাটে অনেক গরু আসছে। কিন্তু ক্রেতা এখনো তেমন নাই। কাল (আজ) থেকে জমবে। এখন গরুগুলারে ঠিকঠাক করতাছি।’

শাহজাহানপুর হাটে এক ক্রেতাকে গরু কিনে বের হতে দেখা গেছে। কত টাকায় গরু কিনেছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, ১ লাখ ৭৯ হাজার টাকায় কিনেছেন।

এ বিষয়ে শাহজাহানপুর হাটের ইজারাদার আনিসুর রহমান টিপু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্রিক্রি করতে নিষেধ করেছি। আমাদের নজরদারিও চলছে। অনেকে দু-একটা গরু আনে, তারা বিক্রি করে চলে যেতে চায়। মানবিক দিক বিচার করে আমরা তাদের নিষেধ করতে পারি না।’

রামপুরার ইকরা মাদ্রাসা হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের পাশেই রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্থায়ী বুথসহ হাসিল আদায়ের বুথ। মাঠ ও মাঠের পাশের রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে গরু রাখা হয়েছে। তবে এই হাটে নেই আগ্রহী ক্রেতার ভিড়।

শেরপুর থেকে আসা মো. কাউসার আজকের পত্রিকাকে জানান, এবার হাটে মাঝারি মানের গরুর চাহিদা বেশি। এখনো কোনো গরু বিক্রি করেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনটা গরু দাম করে গেছে। দুইটার দাম চাইছি ৪ লাখ ৭০ হাজার। সাড়ে ৩ বলে গেছে।’

আরেক ব্যাপারী করিম মিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘হাটের সব ঠিক আছে। খালি কিছু জায়গাত একটু বালু দিতে হবে। নাইলে গরুগুলারে ঠিকমতো রাখবার পারছি না।’

এই হাটের পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত আলী আহসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘হাটের প্রস্তুতি শেষ। এখন আমরা ক্রেতাদের অপেক্ষায় আছি। পাইকারদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পানি, গরু রাখার জায়গা, আইনশৃঙ্খলা, মেডিকেল ব্যবস্থাসহ সামগ্রিক সব বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি আছে। কাল (আজ) বেচাবিক্রি শুরু হলেই হাট জমে উঠবে।’

আফতাবনগরের স্বদেশ প্রপার্টি বালুর মাঠে অস্থায়ী পশুর হাটে গিয়েও অনেকটা একই পরিবেশ দেখা গেছে। ব্যাপারীরা বলছেন, মূল সড়ক থেকে হাটের দূরত্ব, প্রচারণার অভাব এবং তুলনামূলক সীমিত পশুর কারণে এই হাটে এখনো ঈদের আমেজ তৈরি হয়নি। যদিও রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁওসহ আশপাশের এলাকায় রিকশায় করে এই হাটের প্রচারণা করতে দেখা গেছে। হাটের প্রস্তুতি শেষ হলেও হাটের পরিধি অনুযায়ী গরুর সংখ্যা বেশ কম দেখা গেছে।

আগে এই হাট আফতাবনগরের মূল সড়কে লোহার ব্রিজ থেকে শেষ মাথা পর্যন্ত বসত। তবে তা আবাসিক এলাকা এবং বাসাবাড়ির সামনে হওয়ায় আদালত এখানে হাট বসাতে নিষেধাজ্ঞা দেন। এবার নিয়ম মেনে আবাসিক এলাকার বাইরে সানভ্যালি আবাসনের বালুর মাঠের ফাঁকা জায়গায় হাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই হাটে এসেছিলেন বনশ্রীর বাসিন্দা আক্তার হোসেন। তাঁর ছেলেকে নিয়ে এসেছেন হাট দেখাতে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই হাটটা অনেক ভেতরে হয়ে গেছে। আফতাবনগরের গেট ছাড়া এখান থেকে বের হওয়ার রাস্তা নাই। গেট থেকে এখানে রিকশায় আসতেই ৬০ টাকা ভাড়া।’ তবে হাটের খোলামেলা পরিবেশের প্রশংসা করেন তিনি।

এই হাটে পাবনা থেকে ১২টি গরু নিয়ে এসেছেন সজল মোল্লা। তিনি জানান, বুধবার গরু নিয়ে এসেছেন তিনি। তবে এখনো তেমন ক্রেতা বা দর্শনার্থীর দেখা পাননি। সজল বলেন, ‘দু-একজন আসে, দেখে চলে যায়। আগে আসছি ভালো জায়গা ধরতে। এখন তো দেখি জায়গার অভাব নাই।’

হাট পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট মাহমুদ হাসান শাহীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, এবার অনেক ভেতরে হাট হওয়ায় কাস্টমার ও ব্যাপারীদের নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত। তবে কাল (আজ) থেকে আশা করছি এখানে মানুষের সমাগম হবে।

হাটের প্রস্তুতি বিষয়ে শাহীন বলেন, হাটের ৫টি স্থানে মোট ৪০টি ওয়াশরুম করা হয়েছে। খাওয়ার পানির জন্য ৫টি সাবমারসিবল পাম্প বসানো হয়েছে। হাসিল বুথ, মেডিকেল টিম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভলান্টিয়ারসহ হাটের প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত