Ajker Patrika

নৌপথে ঈদযাত্রা: নির্ঝঞ্ঝাট সদরঘাট টার্মিনাল

  • ছুটি শুরুর আগেই টার্মিনালে যাত্রীর চাপ
  • কড়া নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
  • সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই জিজ্ঞাসাবাদ
সোহানুর রহমান, জবি
নৌপথে ঈদযাত্রা: নির্ঝঞ্ঝাট সদরঘাট টার্মিনাল
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে হকার উচ্ছেদ করায় চলাচল অনেকটা সহজ হয়েছে। গতকাল রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। ছবি: আজকের পত্রিকা

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে শুরু হয়েছে ঘরমুখী মানুষের ভিড়। আগামীকাল সোমবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হলেও এর আগেই দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের যাত্রা শুরু হওয়ায় টার্মিনালজুড়ে বেড়েছে ব্যস্ততা। এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে হকারমুক্ত করা হয়েছে টার্মিনাল। যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রশাসন গ্রহণ করেছে কঠোর ব্যবস্থা।

গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, টার্মিনালের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে লঞ্চঘাটের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, নৌ পুলিশ ও অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এলাকাজুড়ে চলছে সার্বক্ষণিক টহল ও কঠোর নজরদারি। সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হকার, দালাল ও বহিরাগতদের টার্মিনাল থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি বা যাত্রী হয়রানির সুযোগ দেওয়া হবে না। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, টিকিট নিয়ে অনিয়ম কিংবা নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয় এমন ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন তাঁরা। অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তাঁরা।

নৌ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি প্রবীর কুমার রায় বলেন, ‘কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা যাত্রী হয়রানির ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সার্বক্ষণিক টহল দেওয়া হচ্ছে। আমাদের একাধিক টিম বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছে। সন্দেহজনক কাউকে তল্লাশি করা হচ্ছে এবং হকারদের সদরঘাটে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কেউ নিয়ম ভঙ্গের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

লঞ্চের কর্মীরা জানান, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম ছিল। তবে বিকেলের পর থেকে ভিড় বাড়তে শুরু করে। মূল যাত্রীর চাপ শুরু হবে ২৫ মে।

তাসরিফ-১ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘এখনো সরকারি ছুটি শুরু না হওয়ায় যাত্রীর চাপ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ছুটি শুরু হলে যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে বলে আশা করছি। সে অনুযায়ী আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

এমভি অথৈ-১ লঞ্চের সুপারভাইজার সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রীসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে লঞ্চের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঈদের আগের শেষ কয়েক দিনে ঘাটে উপচে পড়া ভিড় হবে বলেই ধারণা করছি।’

টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যেও স্বস্তি লক্ষ করা গেছে। অনেকেই বলছেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার সদরঘাটে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা অনেক বেশি। ভিড় থাকলেও আগের মতো বিশৃঙ্খলা ও হয়রানি নেই।

পটুয়াখালীগামী যাত্রী রেহানা বেগম বলেন, ‘এ রকম সদরঘাটের চিত্র এই প্রথম দেখছি। আগে চারপাশে এত হকার থাকত যে চলাচলে ভীষণ অসুবিধা হতো। এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং কোনো অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। এতে স্বস্তি লাগছে।’

ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, ‘সদরঘাটে এবার সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নদীর মূল চ্যানেলে জাল ফেলতেও নিষেধ করা হয়েছে, যাতে লঞ্চ চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়। সব যাত্রীকে টার্মিনাল দিয়েই ওঠানামা করতে হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত