Ajker Patrika

জিসান হত্যা মামলায় চার্জশিট: শেখ হাসিনা, জয়সহ আসামি ২৯ জন

  • আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী এমপি
  • আন্দোলনকারীদের পানি খাওয়াতে এসে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন জিসান
  • যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীরের কাটা রাইফেল থেকে ছড়াগুলিতে নিহত হন জিসান
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
জিসান হত্যা মামলায় চার্জশিট: শেখ হাসিনা, জয়সহ আসামি ২৯ জন
ফাইল ছবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় পানি ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জিসান (২২) নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। গত ৮ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাউছার হুসাইন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

আজ রোববার যাত্রাবাড়ী থানার প্রসিকিউশন দপ্তর থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক ৬ অক্টোবর অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতা শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন বলে জানা গেছে।

মামলায় অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও মশিউর রহমান সজল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান,যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ খান মুন্না, যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, মেহেদী হাসান সুমন, শান্ত নূর খান, রবিউল ইসলাম হেলালী, সাবেক কাউন্সিলর সফিকুল ইসলাম খান দিলু, আবুল কালাম অনু, সাবেক কমিশনার মোস্তাক আহমেদ, যুবলীগ নেতা ফয়সাল খন্দকার ও জাহাঙ্গীর আলম।

এদিকে এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে মাতুয়াইলের ২ নম্বর তিতাস গ্যাস রোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পানি পান করাতে বাসা থেকে বের হন জিসান। তিনি পানি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ওই এলাকায় আন্দোলনকারীদের পানি পান করানোর সময় পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি গুলি চালান।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, জাহাঙ্গীর আলমের হাতে থাকা একটি কাটা রাইফেল থেকে ছোড়া গুলি জিসানের ডান চোখের ওপর, ভ্রুর সামান্য নিচ দিয়ে ঢুকে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জিসানের মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামের উত্তর-পশ্চিমগাঁওয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে বাধা দেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের নির্দেশে স্থানীয় যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলাম হেলালী মরদেহ দাফনে বাধা দেন এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেন। ফলে জিসানের মা বাধ্য হয়ে মাতুয়াইল কবরস্থানে তাঁকে দাফন করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত