Ajker Patrika

এআই ক্যামেরা ফাঁকি দিতে নম্বরপ্লেট ঢেকেও ধরা চালক, জেল-জরিমানা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ১৫: ০৪
এআই ক্যামেরা ফাঁকি দিতে নম্বরপ্লেট ঢেকেও ধরা চালক, জেল-জরিমানা
এআই ক্যামেরার নজর এড়াতে লাবলু হক তাঁর মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটে সাদা স্কচটেপে ঢেকে দেন। ছবি: সংগৃহীত

এআইভিত্তিক (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের তিনটি সংখ্যা ঢেকে রাজধানীর সড়কে চলাচলের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরে তাঁকে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত এক মাসের কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান।

নিছুর রহমান বলেন, গত ১৯ মে এক মোটরসাইকেলচালক নম্বরপ্লেটের তিনটি সংখ্যা সাদা স্কচটেপ দিয়ে ঢেকে রাজধানীর সড়কে চলাচল করেন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ২১ মে বিষয়টি ডিএমপির নজরে আসে। ছবিতে চালকের মুখ স্পষ্ট না থাকায় তাঁকে শনাক্ত করা কঠিন ছিল। পরে সিটিটিসির সহায়তায় বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, মোটরসাইকেলের ধরন ও নম্বরপ্লেট বিশ্লেষণ করে গতকাল সোমবার সেই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির নাম লাবলু হক (৩৮)। তিনি রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা।

ডিএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে নগরবাসীর সহযোগিতা উল্লেখ করার মতো। অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এমনকি ঈদের ছুটিতে যানবাহন কম থাকলেও অনেককেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে দেখা গেছে।

আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমরা উন্নত বিশ্বের মতো একটি স্বয়ংক্রিয় ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ট্রাফিকব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু কেউ যদি প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন আনিছুর রহমান। ১৯ মের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দিয়েছেন বলে তিনি জেনেছেন।

আনিছুর রহমান বলেন, ডিএমপির উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং মূল লক্ষ্য মানুষকে সচেতন করা। তাঁরা চান, সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মেনে চলুক। কিন্তু কেউ আইন ভঙ্গ করলে সেখানে কঠোরতা অনুসরণ করা হবে।

ডিএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, নাগরিকদের সঙ্গে সর্বোচ্চ ভদ্র আচরণ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে। নতুন প্রযুক্তি চালুর পর সেটিকে ফাঁকি দেওয়ার নানা চেষ্টা হতে পারে। তবে ডিএমপির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে যেকোনো অপরাধ উদ্ঘাটনের সক্ষমতা পুলিশের রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত