Ajker Patrika

মাদক কারবারের প্রতিশোধ নিতে বিএনপি কর্মী আলমগীরকে হত্যাচেষ্টা: ডিবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ৩০
মাদক কারবারের প্রতিশোধ নিতে বিএনপি কর্মী আলমগীরকে হত্যাচেষ্টা: ডিবি
পল্লবীতে বিএনপি কর্মী আলমগীর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ল্যাংড়া রুবেল। ছবি: সংগৃহীত

মাদক কারবারের বিরোধ থেকে প্রতিশোধ নিতে রাজধানীর পল্লবীতে বিএনপি কর্মী আলমগীর হোসনকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি)। তবে ডিবির এই দাবি অসত্য বলে মন্তব্য করেছেন আলমগীরের স্ত্রী রিনা আক্তার।

আজ বুধবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, পল্লবীতে মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের লেনদেনকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী মাদক কারবারি ল্যাংড়া রুবেলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির মিরপুর বিভাগ।

মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাদকদ্রব্য বিক্রির লেনদেনকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ল্যাংড়া রুবেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় ইমনের চায়ের দোকানের সামনে মাদক লেনদেনকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে আলমগীরের পেটে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। একই ঘটনায় জোছনা নামে এক পথচারী নারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরদিন শনিবার রাতে আলমগীরের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়।

তিনি জানান, ঘটনার পর ডিবির মিরপুর বিভাগের একটি দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি শনাক্ত করা হয়। পরে গাড়িটির মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মো. শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে হামিদ জানান, গাড়িটি তাঁর নামে নিবন্ধিত হলেও এর প্রকৃত মালিক মাদক কারবারি ল্যাংড়া রুবেল। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবীর কালশী এলাকা থেকে রুবেলের সহযোগী পারভেজ ও রাব্বীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে রুবেলের ব্যবহৃত একটি টয়োটা ভক্সি গাড়ি ও গাড়ির ভেতর থেকে এক হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পরে পারভেজ ও রাব্বীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপনগর থানার ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পাশের বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ল্যাংড়া রুবেল ও বাপ্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

এদিকে ডিবি সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য। ল্যাংড়া রুবেলের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকার ইয়াবা নিয়ে বিক্রি করেছিলেন তিনি। ইয়াবা বিক্রির পর ওই টাকা রুবেলকে না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ বিরোধের জেরেই প্রতিশোধ নিতে আলমগীরকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে পুলিশের দেওয়া এ তথ্য অসত্য বলে দাবি করেছেন আলমগীরের স্ত্রী রিনা আক্তার। আজ তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, তাঁর স্বামী ২৫ বছর ধরে বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ কারণে আওয়ামী আমলের সন্ত্রাসীরা (রাজনৈতিক বিরোধী) নিজেদের বাঁচাতে এসব সাজিয়ে বলেছে। সাংবাদিকেরা অনুসন্ধান করে সত্য বের করে আনুক। সেখানে অপরাধ যে-ই করুক, তার শাস্তি হোক।

রিনার দাবি, গত বছর রাকিবুল হাসান সানি ওরফে ‘পেপার সানি’ হত্যাকাণ্ডে রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাঁর স্বামী এর প্রতিবাদ করেছিলেন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দেন তিনি। এ কারণে আলমগীরকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

আলমগীরকে হত্যাচেষ্টা মামলার পাশাপাশি অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে ডিবির অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত