Ajker Patrika

জীবন বাঁচাতে ডোবায় ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি খোকনের

মাদারীপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২২: ১৩
মাদারীপুরে র‍্যাবে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
মাদারীপুরে র‍্যাবে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় খোকন চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনায় বরিশাল র‍্যাব-৮ ও কিশোরগঞ্জ র‍্যাব-১৪ যৌথ অভিযান চালিয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে মাদারীপুর র‍্যাব ক্যাম্পে এই ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন করেন বরিশাল র‍্যাব-৮-এর কমান্ডার অধিনায়ক মুহাম্মদ শাহাদত হোসেন। তিনি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার তিন আসামিরা হলেন শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৮), একই গ্রামের শামসুদ্দিন মোল্লার ছেলে রাব্বি মোল্লা (২৪) এবং একই উপজেলা মডেরহাটের গুচ্ছগ্রামের সহিদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।

র‍্যাব-৮ সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের পরেশ দাসের ছেলে খোকন চন্দ্র দাস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই উপজেলার কেউরভাঙ্গা এলাকায় পল্লি চিকিৎসার পাশাপাশি ফার্মেসি ও মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ, নগদ ও রকেটের ব্যবসা করতেন। প্রতিদিনের মতো ৩১ ডিসেম্বর রাত ৯টায় খোকন দাস তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাসায় যাওয়ার জন্য বের হন। এ সময় তাঁর কাছে ছয় লাখ টাকা ছিল। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমে হেঁটে বাড়ি সামনে এলেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে টাকার ব্যাগ নিয়ে যায়। পরে আসামিরা ব্যবসায়ী খোকন দাসের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় খোকন দাস তাঁর জীবন বাঁচানোর জন্য পাশে ডোবার পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা দ্রুত পালিয়ে যায়। খোকন দাসকে উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে খোকন মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা পরেশ দাস বাদী হয়ে শরীয়তপুরের ডামুড্যা থানায় মামলা করেন। এই মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যৌথ অভিযান চালান বরিশাল র‍্যাব-৮ ও কিশোরগঞ্জ র‍্যাব-১৪। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের পৈলনপুর থেকে শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টায় দিকে তিন আসামি সোহাগ খান, একই গ্রামের রাব্বি মোল্লা ও একই উপজেলা মডেরহাটের গুচ্ছগ্রামের পলাশ সরদারকে গ্রেপ্তার করেছে।

বরিশাল র‍্যাব-৮-এর কমান্ডার অধিনায়ক মুহাম্মদ শাহাদত হোসেন আরও বলেন, এ ঘটনায় ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের সঙ্গে থাকা একটি বাটন মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। তা ছাড়া আসামিরা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

মাদারীপুর র‍্যাব-৮, সিপিসি-৩ মাদারীপুরের কোম্পানি কমান্ডার (পুলিশ সুপার) মীর মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত