
ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান ও তাঁর মা মিসেস শাহনাজ রহমানসহ ছয়জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক, আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক ও সামসুজ্জামান পাটোয়ারী।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মতো উপাদান নেই। তাঁদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান।
আজ অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী ও বাদীপক্ষে মাসুদ আহমেদ তালুকদার অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী মহসিন মিয়া, খোরশেদ আলম, খোরশেদ মিয়া আলম আসামিদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন।
২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিমিনের বোন শাযরেহ হক বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ১১ জানুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সিমিন রহমানসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৩ জুন ঢাকায় ট্রান্সকম গ্রুপের বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সেই মিটিংয়ের এজেন্ডা হিসেবে ছিল— পূর্বের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুমোদন; ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ ও ইলেকট্রনিক সিগনেচারের অনুমোদন; ট্রান্সকম গ্রুপের স্বত্বাধিকারী লতিফুর রহমান কর্তৃক শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে অনুমোদন। এই মিটিংয়ে হাজিরা শিটে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হয়েছে। হাজিরা শিটে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও মিটিংয়ের সময় তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করেন।
এই বোর্ড মিটিংয়ে তৃতীয় এজেন্ডার মাধ্যমে লতিফুর রহমানের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে তাঁর বড় মেয়ে সিমিন রহমানকে ১৪ হাজার ১৬০টি, ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হককে চার হাজার ৭২০টি শেয়ারসহ সর্বমোট ২৩ হাজার ৬০০টি শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে। এই মিটিংয়ের বিষয়ে শাযরেহ হক দাবি করেন, এই ধরনের বোর্ড মিটিং ২০২০ সালের ১৩ জুন তারিখে অনুষ্ঠিত হয়নি। তদন্তকালে কোম্পানির বর্তমান পরিচালককে ওই তারিখের বোর্ড মিটিং ও রেগুলেশনের কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য বলা হলে আসামিপক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তদন্তে বোর্ড মিটিংয়ের আগে কোনো ই-মেইল অথবা ডাকযোগে কোনো নোটিশ বা চিঠির কপি পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া আরজেএসসিতে (যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর) জমাকৃত শেয়ার হস্তান্তরে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন সিমিন রহমান।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৩ জুন ট্রান্সকম লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তরের কাগজপত্র আরজেএসসিতে জমা দেওয়া হয়। ওই বছরের ১৭ আগস্ট শেয়ার হস্তান্তর হলেও আরজেএসসি নিয়ম অনুযায়ী শেয়ার হস্তান্তরের ফি পরিশোধ না করে বিলম্বে একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর শেয়ার হস্তান্তরের ফি পরিশোধ করা হয়েছে।
এই শেয়ার হস্তান্তর জমা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা কোনো পক্ষই আরজেএসসিতে উপস্থিত ছিলেন না। শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলাকালে শেয়ার গ্রহীতা অর্থাৎ আসামিদের পক্ষে শুধু অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে, শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয় পক্ষকে সশরীরে উপস্থিত থেকে আরজেএসসির প্রতিনিধির সম্মুখে উভয় পক্ষকে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি, যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার লঙ্ঘন।
এ ছাড়া ২০২০ সালে ভাই-বোনের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে বেশির ভাগ শেয়ার নিজের নামে নেওয়ার জন্য সিমিন গ্রুপ অব কোম্পানির নথিপত্র ও পারিবারিক ডিড অব সেটেলমেন্ট তৈরি করেন। এ জন্য সিমিন রহমান দুটি ভুয়া স্ট্যাম্প অ্যাফিডেভিট ব্যবহার করে সেখানে ছোট বোন শাযরেহ হকসহ বাবা, ভাই ও অন্যদের স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে ট্রান্সকমের বেশির ভাগ শেয়ার ট্রান্সফারের দলিল তৈরি করেন এবং এগুলো আরজেএসসিতে দাখিল করেন সিমিন। শাযরেহ হকের নামে আরজেএসসিতে সিমিনের করা অ্যাফিডেভিটের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ২০২৩ সালে সৃজনকৃত বলে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া ডাক বিভাগ ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
চার্জশিটে আরও বলা হয়, জাল সন্দেহ হওয়ায় দুটি স্ট্যাম্পের সত্যতা নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি প্রতিবেদন চান আদালত। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, যে ভেন্ডর থেকে এই স্ট্যাম্প দুটি সরবরাহের তথ্য রয়েছে, ওই ভেন্ডরের লাইসেন্স ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাতিল করা হয়। তিনি ২০২৩ সালের স্ট্যাম্পকে অসদুপায়ে সংগ্রহ করে আসামিপক্ষকে ২০২০ সালের ৩ মার্চ নিজ স্বাক্ষরে সরবরাহ করেন।

আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বুড়িমারী ইউনিয়নের আলীমুদ্দিন ছবুর উদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন রানা ইসলাম। এ সময় তিনি এক ছাত্রীর উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি টের পেয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশ ও ইউএনওকে অবহিত করে।
৫ মিনিট আগে
দুই আসনেই স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর ভরাডুবি হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী জামানত রক্ষায় মোট প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রয়োজন হলেও অধিকাংশ ছোট প্রার্থী সে সীমার কাছাকাছিও যেতে পারেননি। এতে জয়পুরহাটে ভোটের মেরুকরণ যে দ্বিমুখী, তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
১৪ মিনিট আগে
নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের স্ত্রী ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক পরিচালক নাসরিন ইসলামের মালিকানাধীন ৬০৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ জমি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কুমিল্লা জেলায় থাকা এই ভূ-সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৪২ হাজার ১০৪ টাকা।
১ ঘণ্টা আগে
ওমরা হজ পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লক্ষ্মীপুরের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন। নিহত ব্যক্তিদের বাড়ি রামগঞ্জের ভাটরার পাঁচমুখী এলাকায়। নিহতরা হলেন মিজানুর রহমান (৪৫), তাঁর স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমি (৩৬), দেড় বছরের শিশুকন্যা সুবাহ আক্তার ও বড় মেয়ে মোহনা
১ ঘণ্টা আগে