Ajker Patrika

খসড়া মানবাধিকার কমিশন আইনে সংশোধনের আহ্বান ব্লাস্টের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
খসড়া মানবাধিকার কমিশন আইনে সংশোধনের আহ্বান ব্লাস্টের
ফাইল ছবি

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা, কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬-এ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। একই সঙ্গে মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়নের সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্লাস্ট এ প্রতিক্রিয়া জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের আইনে অনুপস্থিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান ২০২৬ সালের খসড়ায় যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মানবাধিকার বিষয়ে অভিজ্ঞ পাঁচজন পূর্ণকালীন কমিশনার নিয়োগ এবং কমিশনার বাছাই কমিটিতে নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। তবে কমিশনের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আরও কিছু সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে ব্লাস্ট।

সুপারিশ অনুযায়ী, পাঁচ সদস্যের কমিশনে অন্তত দুজন নারী এবং একজন সংখ্যালঘু বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রাখার বিধান যুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করতে বাছাই কমিটিতে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।

ব্লাস্টের মতে, কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে নিজস্ব বিধি, প্রবিধান ও কার্যপ্রণালি প্রণয়নের ক্ষমতা কমিশনকে দিতে হবে। একই সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা বা কার্যালয় স্থাপনে নির্বাহী বিভাগের পূর্বানুমোদনের বিধান বাতিলেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, খসড়া আইনে আটকস্থান পরিদর্শনের ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (এনডিএল) গঠনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে ডিএমকে কার্যকর করতে কমিশনারদের সরাসরি তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে প্রয়োজন অনুযায়ী সময় বাড়ানো বা কমিশনের নিজস্ব তদন্ত পরিচালনার সুযোগ রাখার সুপারিশ করেছে ব্লাস্ট। এ ছাড়া কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য করার বিধান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রতিকারমূলক নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতাকে যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

জবাবদিহি বাড়াতে কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে দাখিল ও ওয়েবসাইটে প্রকাশের পাশাপাশি স্পিকারের মাধ্যমে ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে উপস্থাপনের বাধ্যতামূলক বিধান রাখারও আহ্বান জানিয়েছে ব্লাস্ট।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৭ মে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অংশীজন সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬-এর খসড়া উপস্থাপন করা হয়। পরে ২৪ মে খসড়া আইনের ওপর বিস্তারিত সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় ব্লাস্ট। এরপর ২৫ জুলাই আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ জুলাই) ব্লাস্ট তাদের সুপারিশের সারসংক্ষেপ আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত