
পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনে শিকড়ের টানে কর্মস্থল রাজধানী ঢাকা ছাড়বে বিপুলসংখ্যক মানুষ । প্রতিবছরের মতো এবারের ঈদযাত্রায়ও বাড়িমুখী মানুষের বেশি চাপ পড়বে মহাসড়কে । যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে যাত্রীর বাড়তি চাপে ঢাকা - টাঙ্গাইল ও ঢাকা - সিলেট মহাসড়কে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা । তাঁদের মতে , ছুটি কম হলে বা শিল্পকারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া না হলে একসঙ্গে বাড়িমুখী মানুষের ঢল নামলে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে ।
রাজধানী থেকে বের হওয়ার পথে গাবতলী , সাভার , বাইপাইল , চন্দ্রা , উত্তরা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা , কাঞ্চন ব্রিজ , সায়েদাবাদ , কাঁচপুর এলাকায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে । তবে সরকারি দপ্তরগুলোর ঈদের প্রস্তুতিমূলক অভ্যন্তরীণ সভায় এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশাবাদ জানানো হয়েছে । আগামীকাল বৃহস্পতিবার সড়ক ও সেতু , রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে সড়ক ঈদযাত্রা বিভাগে সভা হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সম্প্রতি বলেছেন , অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার ঈদযাত্রা স্বস্তির ও নিরাপদ হবে । এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে । পরিবহনসংশ্লিষ্টরা জানান , ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলার যাত্রীরা । কারণ , এই পথের ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের নবীনগর পর্যন্ত এবং নবীনগর - বাইপাইল - চন্দ্রা মহাসড়কে তীব্র যানজট মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে । আবার মহাখালী থেকে উত্তরার আবদুল্লাহপুর হয়ে বাইপাইল - চন্দ্ৰা পথেও থাকে যানজট । একই অবস্থা হয় টঙ্গী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে ।
এই পথে চলে বৃহত্তর ময়মনসিংহের যানবাহন । একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের ঈদযাত্রা , যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা , মহাসড়কে সরাসরি লেনে ও উল্টো পথে ব্যাটারিচালিত অসংখ্য রিকশা , রিকশা - ভ্যানসহ তিন চাকার যানের চলাচল , চালকদের নিয়ম না মানার কারণে সালেহপুর সেতুর পর থেকে হেমায়েতপুর - সাভার - নবীনগর এবং নবীনগর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে । সাভার- নবীনগরের জট ঢাকা - আরিচা মহাসড়ক ব্যবহারকারীদেরও ভোগান্তিতে ফেলবে । ঢাকা - টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা হয়ে রংপুর পর্যন্ত অধিকাংশ অংশ ৬ লেনে উন্নীত হয়েছে । এতে চলাচল সহজ হওয়ার কথা থাকলেও বাইপাইল এলাকায় আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের কারণে নিচের সড়ক সরু হয়ে গেছে ।
চন্দ্রা মোড়ে বিভিন্ন গন্তব্যের বাসসহ যানবাহন একত্র হওয়ায় সেখানে জটের ঝুঁকি থাকে । টঙ্গী , গাজীপুর ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল থেকে শ্রমিকেরা একসঙ্গে বের হলে চাপ আরও বাড়তে পারে । এলেঙ্গা দুই মহাসড়কে ভোগান্তির শঙ্কা শেষ পৃষ্ঠার পর এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণ চলছে । অতিরিক্ত যানের চাপ পড়লে যমুনা সেতুর দুই প্রান্তেও জট হতে পারে । গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ওভারপাস নির্মাণকাজের কারণে নিচের সড়ক সংকুচিত , সেখানেও ধীরগতি দেখা দিতে পারে । ঢাকা - সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম ঢাল , যাত্রামুড়া , তারাব , ডেমরা ও ভুলতায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে । চার লেনের উন্নয়নকাজ চলায় বিভিন্ন অংশে সড়কের অবস্থা নাজুক ।
নরসিংদীর সাহেপ্রতাপ বাজার , ভোলানগর ও ইটখোলায় সেতুর নির্মাণকাজ চলছে । এসব স্থানে স্থানীয় যানবাহন ও কাউন্টারের কারণে বাস দাঁড় করিয়ে রাখায় জট সৃষ্টি হয় । ভৈরব বাজার , আশুগঞ্জ , হবিগঞ্জের মাধবপুর ও শায়েস্তাগঞ্জ গোলচত্বরে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে । পরিবহনসংশ্লিষ্টদের ধারণা , ছুটি কম হলে এবারের ঈদে এই দুই মহাসড়কে ভোগান্তি হতে পারে । এ ছাড়া এই দুই মহাসড়কের যানগুলোকে ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথেও তীব্র জটে পড়তে হতে পারে । ঢাকা - চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড , কাঁচপুরের পূর্ব ঢাল ও মদনপুরে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে । পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণ - পশ্চিমাঞ্চলগামী যানবাহনের জন্য সায়েদাবাদ , দোলাইরপাড় ও পোস্তগোলার জট মানুষকে ভোগাবে । বিশেষ করে দোলাইরপাড় মোড়ে গড়ে ওঠা
কাউন্টারগুলোর সামনে এবং এক্সপ্রেসওয়ের প্রবেশমুখে বাসের বিশৃঙ্খলায় প্রতি ঈদেই তীব্র জট সৃষ্টি করছে । এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজায়ও চাপের কারণে জটের শঙ্কা রয়েছে ।
ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিমানবন্দর , উত্তরা , আবদুল্লাহপুর ও গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকাও জটের ঝুঁকিতে রয়েছে । এ ছাড়া ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশালের মহাসড়ক দুই লেনের হওয়ায় ঈদের সময় যানবাহনের চাপ বাড়লে দুর্ঘটনা আশঙ্কা থাকে ।
সড়ক ও জনপথ ( সওজ ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন , মহাসড়কে বড় কোনো জটিলতা নেই । গতবার ঢাকা - সিলেট পথে তেমন যানজট হয়নি , এবারও তেমন সমস্যা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে । তবে উত্তরাঞ্চলের পথে বাইপাইল , চন্দ্রা ও যমুনা সেতু এলাকায় কিছুটা যানজটের আশঙ্কা রয়েছে । ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকর করা গেলে চাপ কমবে । ঈদের আগমুহূর্তে সাময়িক জট হতে পারে । তবে মহাসড়কের অবস্থার কারণে বড় ধরনের জটের আশঙ্কা কম । সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায় , ১৫ রমজানের মধ্যে সড়কের সব মেরামতকাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । সিমেন্ট , রড , পাথর ও বালুবাহী ট্রাক ঈদের আগে- পরে সাত দিন সীমিত এবং ঈদের তিন দিন আগে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে । খাদ্য , ওষুধ ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক থাকবে ।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো . দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন , এবার ঈদযাত্রা আগের চেয়ে স্বস্তিদায়ক হবে । ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্য মহাসড়কে মোতায়েন করা হয়েছে । সড়কে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে । যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ( বুয়েট ) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড . মো . হাদিউজ্জামান বলেন , দেশের বাস্তবতায় পর্যাপ্ত সড়ক এবং যানবাহন — দুটিরই অভাব থাকায় ভোগান্তি হওয়াটা স্বাভাবিক ।
তবে ছুটি বাড়িয়ে ধাপে ধাপে মানুষকে বাড়ি পাঠিয়ে , সড়কে অযান্ত্রিক ছোট যান বন্ধ রাখাসহ কিছু ব্যবস্থা নিলে সেটা কমানো সম্ভব । ঈদের সময় সড়কে ঈদ সালামির নামে চাঁদা তোলা বন্ধ করতে হবে । ঈদে দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ছাড়তে পারেন বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাব বলছে , ঈদুল ফিতরে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ছাড়তে পারেন । তাঁদের ৬০-৭০ শতাংশ যাবেন সড়কপথে । বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন , দীর্ঘ ছুটি থাকলে চাপ ভাগ হয়ে যেতে পারে । আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী , বিআরটিএ , সওজসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এখন থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করলে ভোগান্তি হবে না ।

কাউকে আগাম না জানিয়ে আকস্মিকভাবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিস পরিদর্শনে এসেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পরিদর্শনে এসে তিনি দেখতে পান ভূমি অফিস তালাবদ্ধ রয়েছে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীও কর্মস্থলে হাজির নেই।
৩ মিনিট আগে
ঠাকুরগাঁও সদরে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের জন্য খুঁড়ে রাখা গর্তে মোটরসাইকেলসহ পড়ে গিয়ে আবু সাঈদ (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ভাওলারহাট হেলিপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবু সাঈদ সদর উপজেলার ৯ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের কাচনা গ্রামের মকিম উদ্দিনের ছেলে।
১ ঘণ্টা আগে
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় (পিআইও) সূত্রে জানা গেছে, গত ঈদুল আজহায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ২৬৬ দশমিক ৪১০ টন চাল বরাদ্দ ছিল। এতে ২৬ হাজার ৬৪১টি পরিবার সহায়তা পেয়েছিল। কিন্তু আসন্ন ঈদুল ফিতরে বরাদ্দ এসেছে ১১১ দশমিক ১০০ টন চাল, যা দিয়ে ১১ হাজার ১১০টি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া সম্ভব হবে।
২ ঘণ্টা আগে
শিবচর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ হয়ে সিপাইকান্দি থেকে মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণকাজ শুরু হয় ছয় মাস আগে। কিন্তু শুরু থেকেই নির্মাণকাজে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ছাড়াও মাটির ওপর কলা...
৩ ঘণ্টা আগে