Ajker Patrika

যুবদল কর্মী ইউসুফ হত্যা: পরিকল্পনাকারীসহ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তারের কথা জানাল ডিবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৪: ৩৬
যুবদল কর্মী ইউসুফ হত্যা: পরিকল্পনাকারীসহ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তারের কথা জানাল ডিবি
যুবদল কর্মী ইউসুফ হত্যায় গ্রেপ্তার ৭। ছবি: পুলিশ

রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা-পুলিশ।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. নাহিদ হাসান (২১), মো. শাফিন আহমেদ (২২), মো. জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মো. আলী হোসেন (৪৫), মো. জিহাদ মোল্লা (৩০), মো. মাসুম বিল্লাহ (২৮) ও মো. আবির হাওলাদার (২৫)।

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও দু-তিনজন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করে। তাঁরা মিরপুর-১০ এলাকার বৈশাখী হোটেলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয় এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। এ সময় আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল গ্যারেজে নিয়ে আসে। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে মিসফায়ার হলে ওই দিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা লক্ষ্যব্যক্তি কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাঁকে শনাক্ত করে এবং সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায়।

পরবর্তীকালে ২২ জুলাই সিএনজি হাফিজের নির্দেশে তাঁরা পুনরায় ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২ এলাকার সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই আবার সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।

ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টায় হাফিজুল ইসলাম বাবু তাঁর কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অবস্থানকালে অপরিচিত কয়েকজনকে সন্দেহ হলে তাঁদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাঁদের দেহ তল্লাশি করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

ডিবি সূত্র জানায়, ২৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাফরুল থানার ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশের লিংক রোড এলাকায় সশস্ত্র হামলায় যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ নিহত হন। এ সময় সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ আবির হাওলাদারকে আটক করে কাফরুল থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

মামলার তদন্তে ডিবি ও কাফরুল থানা-পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বাকি ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে ‘সিএনজি হাফিজ’ তাঁর প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেশাদার খুনি ভাড়া করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাঁরা কয়েক দফা বৈঠক করে অস্ত্র সংগ্রহ ও লক্ষ্যব্যক্তিকে নজরদারি করে। হত্যাকাণ্ডের দিন হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের সামনে অবস্থান নেওয়ার পর পরিচয় জানতে চাইলে একপর্যায়ে গুলি ছোড়া হয়। এতে লক্ষ্যব্যক্তির পরিবর্তে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এবং আরও দুজন আহত হন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান। একই সঙ্গে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত