Ajker Patrika

মোহাম্মদপুরে ৩৫ কাঠা জমি দখলে হামলা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
মোহাম্মদপুরে ৩৫ কাঠা জমি দখলে হামলা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর এবার মোহাম্মদপুরে শতাধিক লোক নিয়ে ৩৫ কাঠা জমি দখলের চেষ্টায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার সকালে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ের রোজ ভিলা-সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, হামলার সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম ও যুগ্ম সম্পাদক নান্নু। এ ছাড়াও ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর মোহাম্মদপুর থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার সোহেল মোল্লা এবং তাঁদের কর্মী নুর নবী দেওয়ান ও জামাল হোসেন। তাঁদের নির্দেশে লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আমি কিছুই জানি না। আমি মূলত ওই জমিতে থাকা স্থাপনা আলম হোসেনের ম্যানেজার সাদেকের কাছ থেকে কিনেছি।

চার মাস ধরে আমি স্থাপনা ভেঙে নিতেছি। আমি জমির বিষয়ে কিছুই জানি না।’

নুরুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নামধারী কিছু লোক এই হামলা ও লুটপাট করেছে। তাদের মদদ দিয়েছে তৃতীয় একটি পক্ষ, যারা এখন জমির মালিক দাবি করছে। লুটপাটে আমার কেনা মালামালও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

ভুক্তভোগী জয়নাল আব্দুল্লাহ আল মামুনের দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ১০০ থেকে ১৫০ জন ব্যক্তি অফিসে ঢুকে ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রায় ১৫ লাখ টাকা, পাঁচটি ল্যাপটপ, দুটি এসি, তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মালপত্র নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা জানান, হামলাকারীরা প্রথমে ওই জমিতে ঢুকে পুরোনো টিনের বেড়া ভেঙে ফেলে। পরে তারা পাশের একটি অফিসে হামলা চালিয়ে দরজা-জানালা ও আসবাব ভাঙচুর করে। সেখান থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, এসি, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মালপত্র ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জমির চারপাশে নতুন করে টিন ও বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে আশপাশের কয়েকজনকেও মারধর করা হয়। বাড়িতে ঢুকে এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সালাম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমাদের বাড়ি এই জমির পাশে। আমরা দাঁড়িয়ে ঘটনাটি দেখছিলাম। আমাদেরকেও মারধর করা হয়েছে। বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে জহির নামে একজন ফোনে কথা বলছিল। তাকে ঘরে ঢুকে মারধর করা হয়েছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩৫ কাঠার জায়গাটি চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ের চেয়ারম্যান মো. আলম হোসেনের কাছ থেকে ২০০৪ সালে কিনে নেন হুমায়ুন নামে তাঁর এক স্বজন। সেখানে প্লট ও মার্কেট তৈরি করা হচ্ছিল। প্লট আকারে আরও ২৯ জনের কাছে শেয়ার বিক্রি করা হয়। জায়গাটিতে বর্তমানে শপিং মল তৈরির কাজ চলছিল। তবে ৫ আগস্টের পর আলম হোসেন পলাতক। তাঁর অনুসারীরা এটি দেখাশোনা করছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ কাঠার জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মালিকানার বিরোধ রয়েছে। তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা জানান, জনি ও রেজাউলের নেতৃত্বে ১৫০ থেকে ২০০ জন লোক জমিতে প্রবেশ করে পুরোনো বেড়া ভেঙে দেয় এবং নতুন করে বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা করে। উভয় পক্ষ জমিটির মালিকানা নিয়ে নিজ নিজ কাগজপত্র থাকার দাবি করছে।

মোহাম্মদপুর থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম কবির বলেন, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এই ঘটনায় জয়নাল আবেদিন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে জমি ও অফিস দখলের পাঁয়তারা করার কথা বলা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত