Ajker Patrika

খাবারে মাছি পাওয়ায় হোটেল কর্মচারীর গায়ে বাটি ছুড়ে মারার ঘটনায় জাবিতে উত্তেজনা

জাবি প্রতিনিধি 
খাবারে মাছি পাওয়ায় হোটেল কর্মচারীর গায়ে বাটি ছুড়ে মারার ঘটনায় জাবিতে উত্তেজনা
সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাবির বটতলায় শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: আজকের পত্রিকা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনে মোবারকের খাবারে মাছি পাওয়ার ঘটনায় মেজাজ হারিয়ে দোকান কর্মচারীর ওপর খাবারের বাটি ছুড়ে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের বটতলা এলাকায় শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় অন্তত ২৫টি দোকান বন্ধ করে দেন। এ সময় তাঁরা হুসনে মুবারক ও জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতীর বিচার দাবি করেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার ‘হাবিব ভাইয়ের হোটেলে’ খাবার খেতে যান জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনে মোবারক ও কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী। খাওয়ার সময় তাঁরা দেখতে পান তাঁদের যে খাবার দেওয়া হয়েছে সেখানে মাছি ছিল। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে হুসনে মোবারক জোরপূর্বক দোকানের কর্মচারীকে মাছি যুক্ত খাবার খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে রেগে হুসনে মোবারক হোটেলের কর্মচারীকে লক্ষ্য করে হালিমের বাটি ছুড়ে মারলে তাঁর গায়ে লাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপগুলোতে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে একদল শিক্ষার্থী বটতলায় প্রতিবাদস্বরূপ দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরে দোকানদারেরা বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ করে দেন। এরপর ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বটতলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাঁরা জাকসুর নেতার অসদাচরণের বিপক্ষে ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যুক্ত হন। অন্যদিকে জাকসুতে ছাত্রশক্তি থেকে নির্বাচিত কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতীসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে অপর পক্ষের হয়ে অবস্থান নেন। ছাত্রদলের পক্ষটি জাকসুর অভিযুক্ত নেতা হুসনে মোবারকের বিচার দাবি করেন; অন্যদিকে জাকসুর কার্যকরী সদস্য চিশতীসহ অন্যরাও ঘটনার বিচার দাবি করেন, কিন্তু দোকানগুলো খুলে দিতে বলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং গালিগালাজ করতে দেখা যায়।

এদিকে কর্মচারীর গায়ে হালিমের বাটি ছুড়ে মারার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনে মোবারক। তিনি বলেন, ‘খাবারে দুর্গন্ধযুক্ত দ্রব্যাদির মধ্যে যে মাছি থাকে, সেই মাছি দেখতে পেয়ে আমি সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে প্রতিবাদস্বরূপ বাটিটি ছুড়ে মারি। আমি তাঁকে শারীরিকভাবে কোনো আঘাত করিনি। খাবারের মান নিশ্চিত করা শুধু জাকসুর একার পক্ষে সম্ভব নয়। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে কোথাও সমস্যা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত বলে আমি মনে করি।’

সার্বিক বিষয়ে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘গতকালের (বুধবার) ঘটনায় আমরা দুই পক্ষকে অনুরোধ করেছি যাতে ক্যাম্পাসে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। শিক্ষার্থীরা আমাদের কথা শুনেছেন। আজ (বৃহস্পতিবার) দুই পক্ষকেই নিয়ে বেলা ৩টায় সিনেট হলে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং প্রক্টরের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত