Ajker Patrika

ঢাকা–১৫: ‘অনেক দিন পর সুষ্ঠু ভোটের সুযোগ’, মিটেছে ‘পিপাসা’, ভোটকেন্দ্রে স্বস্তি ও প্রত্যাশা

আব্দুল্লাহ আল গালিব, ঢাকা
ঢাকা–১৫: ‘অনেক দিন পর সুষ্ঠু ভোটের সুযোগ’, মিটেছে ‘পিপাসা’, ভোটকেন্দ্রে স্বস্তি ও প্রত্যাশা
ঢাকার একটি কেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন। ছবি: আজকের পত্রিকা

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রে ভিড় করছেন নানা বয়সী ভোটাররা। কেউ জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোট দিতে পেরে তারা স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করছেন। অধিকাংশ ভোটারের চোখেই ছিল উচ্ছ্বাস, কারও দায়িত্ববোধ। সব মিলিয়ে জমে উঠেছে ঢাকা-১৫ আসনের ভোটকেন্দ্রগুলো।

ঢাকা-১৫ আসনের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় বালক শাখা কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা সুরাইয়া সুলতানা জানান, দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ আসায় তিনি সকালেই কেন্দ্রে চলে আসেন। খুবই ভালো লাগছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যার হাতে দেশ ও জাতি ভালো থাকবে বলে মনে হয়েছে, তাকেই ভোট দিয়েছেন। আরও বলেন, ‘প্রত্যাশা থাকবে—নির্বাচিত ব্যক্তি যেন দেশকে নিরাপদ, স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।’

তাজিয়া খান জানান, আগে ভোটার হলেও কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। এবার নিজের মতো করে অধিকার প্রয়োগ করতে পেরে ভালো লাগছে বলে জানান। তাঁর ভাষায়, ‘অনেক দিন পর সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ মিলেছে, এর নেপথ্যে জুলাই অভ্যুত্থান। আজ মনে হচ্ছে, এত মানুষের ত্যাগ বৃথা যায়নি। এখন নির্বাচিত সরকার কী করে সেটাই দেখার বিষয়।’

৫৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মো. আসগর বলেন, ‘২০০৮ সালে শেষ ভোট দিয়েছিলাম। এরপর আর সরকারের আমাদের দরকারই হয়নি। জীবিত-মৃত সবার ভোট নিজ দায়িত্বে দিয়ে গদি বুঝে নিয়েছে। আজ কেন্দ্রে এসে মনে হচ্ছে নাগরিক হিসেবে আবারও গুরুত্ব ফিরে পেয়েছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারায় স্বস্তি লাগছে। আশা করি নির্বাচিতরা জনগণের প্রত্যাশা বুঝবেন।’

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় বালিকা শাখা কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ৩৪ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই প্রথম ভোট দিতে পারলাম, অবশ্যই ভালো লাগছে। কেন্দ্রের ভেতরের পরিস্থিতি স্বাভাবিকই মনে হয়েছে, সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি চাই নতুন নেতৃত্ব জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ হোক। সরকার যেন প্রকৃত অর্থে জনগণের জন্যই হয়।’

আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবু সালেহ বলেন, ‘বয়স হয়েছে, কিন্তু ভোট না দিয়ে থাকতে পারিনি। একটা পিপাসা তো ছিলই বলতে পারেন। যে দলই সরকার গঠন করুক, চাই স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ।’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শিহাব বলেন, ‘প্রথমবার ভোট দিলাম। গণভোটও দিয়েছি। আমার বয়স এখন ২৪, জুলাই অভ্যুত্থান না হলে হয়তো ৪২ বছরেও দিতে পারতাম না। অবশ্যই ভালো লাগছে, এটা আসলে ভিন্ন রকম অনুভূতি।’

কাজীপাড়া সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা গৃহিণী কামরুন নাহার মৌ বলেন, ‘পরিবারের সবাই মিলে ভোট দিতে এসেছি। আমার শাশুড়ি মা ও এসেছেন, উনি সর্বশেষ মনে হয় ২০০১ সালে ভোট দিয়েছেন। ২০০৮ এ ভোট দেননি। তিনি অসুস্থ, তাও আজ বলছিল, আমাকেও নিয়ে যাও।’

ঢাকা-১৫ আসনের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নানা বয়সী ভোটাররা আসছেন ভোট দিতে। সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি কম হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে ভোটারও বাড়ছে, দীর্ঘ হচ্ছে লাইন। দীর্ঘ বিরতির পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে অনেকেই একে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন সূচনা হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা—নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যেন দেশকে স্থিতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব পথে এগিয়ে নেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত