Ajker Patrika

‘সাবেক’ স্ত্রীর মামলায় উপসচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

রাসেল মাহমুদ, ঢাকা
‘সাবেক’ স্ত্রীর মামলায় উপসচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
প্রতীকী ছবি

যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে ‘সাবেক’ স্ত্রীর করা মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন মো. ছানাউল্ল্যাহ (৪৩) নামের এক বিচারক। গত ৩০ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

মো. ছানাউল্ল্যাহ বর্তমানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আইন অনুবিভাগের উপসচিব (আইন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ছানাউল্ল্যাহর বিরুদ্ধে গত ১৩ জানুয়ারি ডিএমপির বনানী থানায় মামলা করেন তাঁর ‘সাবেক’ স্ত্রী নাসরিন আক্তার মৌ (৪৬)। তদন্ত শেষে গত ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন ডিএমপির উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহানাজ বেগম।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, মামলার বাদী নাসরিন আক্তার মৌ প্রতিষ্ঠিত গাড়ি ব্যবসায়ী। তিনি তালাকপ্রাপ্ত এবং তিন সন্তানের জননী। তিনি সন্তানদের নিয়ে গুলশানের একটি বাসায় থাকেন। ব্যবসায়িক লেনদেনের পাওনা টাকা আদায়ে আইনি সহায়তার সূত্র ধরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছানাউল্ল্যাহর সঙ্গে পরিচয় হয় মৌর। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁর সঙ্গে ছানাউল্ল্যাহর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তাঁরা বিয়ে করেন। মৌ তাঁর সন্তানদের নিয়ে গুলশানের নিজ বাসায় থাকলেও ছানাউল্ল্যাহর সঙ্গে সংসার করতে উভয়ে বনানী এলাকায় বাসা ভাড়া নেন।

মৌর অভিযোগ, স্বামীর কথামতো বাসাভাড়ার টাকা পরিশোধ এবং বাসার জিনিসপত্র কেনেন তিনি। স্বামী ছানাউল্ল্যাহ ওই বাসায় মাঝে মাঝে আসা-যাওয়া করতেন এবং বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে টাকা নিতেন। এ ছাড়া গাড়ি ও জমি কিনে দিতেও চাপ সৃষ্টি করতেন ছানাউল্ল্যাহ।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, গত বছরের ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় বনানীর বাসায় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছানাউল্ল্যাহ স্ত্রী মৌর কাছে যৌতুক হিসেবে গাড়ি ও জমি কিনে দেওয়ার দাবি করেন। মৌ রাজি না হলে ছানাউল্ল্যাহ তাঁকে মারধরে জখম করেন।

মামলার তদন্ত ও মেডিকেল সনদপত্র পর্যালোচনায় ছানাউল্ল্যাহর বিরুদ্ধে এসব অপরাধ সত্য প্রমাণিত হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

তবে ছানাউল্ল্যাহর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম হিমেল আজকের পত্রিকাকে বলেন, মামলার আসামি ও বাদী দুজনে স্বামী-স্ত্রী ছিল। স্বামীর কথা হলো, তাঁকে জোরপূর্বক বিয়ে করা হয়েছে। পরবর্তীকালে বাদীকে ডিভোর্স দেওয়া হয়েছে। ডিভোর্স সম্পর্কে জানার পর বাদী মামলাটা করেছিল।

আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁর আইনজীবী বলেন, ‘চার্জশিট হয়েছে কি না আমার জানা নেই, এখন চার্জ শুনানিসহ পরবর্তী যেসব প্রক্রিয়া রয়েছে সেটা আমরা করব।’

মামলার এজাহারে নাসরিন আক্তার উল্লেখ করেন, ব্যবসায়িক লেনদেনে সহায়তার সূত্র ধরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁর সঙ্গে মো. ছানাউল্ল্যাহর পরিচয় হয়। পারিবারিক কলহের কারণে ছানাউল্ল্যাহ তাঁর প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন বলে জানান। তাঁর তিন সন্তান আছে, তারা মায়ের কাছে থাকে। এ ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে ছানাউল্ল্যাহ তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে সম্মত হয়ে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ছানাউল্ল্যাহ তাঁকে বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা বলেন এবং বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌতুক দাবি করেন, টাকা নেন। সর্বশেষ একটি নিশান গাড়ি এবং তাঁর গ্রামের বাড়ির পাশে ৭ কোটি টাকা মূল্যের ১০০ শতাংশ সম্পত্তি যৌতুক হিসেবে কিনে দিতে স্ত্রীকে চাপ দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় ছানাউল্ল্যাহ তাঁকে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন ডিএমপির নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহানাজ বেগম।

অভিযোগপত্রের বিষয়ে ডিএমপির নারী সহায়তা এবং তদন্ত বিভাগের এসআই শাহানাজ বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, মামলাটির তদন্তে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ শেষে চার্জশিট আদালতে দায়ের করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত