Ajker Patrika

নেত্রকোনায় যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা কারাগারে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা কারাগারে
জাকির আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনায় স্ত্রীর করা যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় জাকির আহমেদ (৩৮) নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (৬ মে) সকালে শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহসিনা ইসলাম তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত জাকির আহমেদ নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ইসপিঞ্জাপুর গ্রামের মো. আলকাস উদ্দিনের ছেলে। তিনি কলমাকান্দা উপজেলার সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত।

মামলার বাদী তাঁর স্ত্রী মাহফুজা নাসরিন মুন্নী (৩৫)। তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার কুরপাড় এলাকার মাজহারুল ইসলামের মেয়ে। মামলাটি নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বর্ণালংকার, মোটরসাইকেল, আসবাবসহ বিভিন্ন উপঢৌকন দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকে জাকির আহমেদ ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার কথা বলে শ্বশুরের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো।

মামলায় আরও বলা হয়, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর জাকির তাঁর স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এর পর থেকে তিনি স্ত্রী ও সন্তানের কোনো খোঁজখবর নেননি। তাঁদের সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যে চোখের রোগে আক্রান্ত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ গত বছরের ৫ ডিসেম্বর নেত্রকোনা শহরের কুরপাড় এলাকায় বাদীর বাবার বাড়িতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। সেখানে আবারও ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।

বাদীর ভাষ্য, ‘বৈঠকে যৌতুক দিতে অপারগতার কথা জানালে জাকির আহমেদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং টাকা না দিলে সংসার করবেন না বলে জানিয়ে চলে যান। যৌতুক না পেলে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করার হুমকিও দেন বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির আহমেদ বলেন, তিনি কোনো যৌতুক দাবি করেননি এবং তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

নেত্রকোনা সোনালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক নূরুল ইসলাম জানান, কোনো কর্মকর্তা ফৌজদারি মামলায় কারাগারে গেলে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কৃষক দলের সভাপতি তুহিনকে বিএমডিএ চেয়ারম্যান নিয়োগ

সরকার গঠন করতে কংগ্রেসের সমর্থন চাইলেন বিজয়

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনে বিজয়কে সহায়তা করবে কংগ্রেস, পেতে পারে ২ মন্ত্রিত্ব

জুলাই থেকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কার্যালয় আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে

অন্তঃসত্ত্বা ১১ বছরের শিশু: পলাতক মাদ্রাসাশিক্ষকের ভিডিও ভাইরাল, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত