Ajker Patrika

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা

সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ জুন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ১৮: ৫৯
সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ জুন
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ওরফে স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ রোববার বিকেলে ঢাকার শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক ঢাকার শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। এরপর ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

ঢাকার মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী জানান, অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হওয়ার পরই বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হবে।

এ দিন অভিযোগপত্র দাখিল উপলক্ষে সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে মামলার কোনো শুনানি না থাকায় তাঁদের ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়নি। মামলার অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২)/৩০ ধারা ও দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে আট বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাস রোধ করে হত্যা এবং লাশ গুমের উদ্দেশ্যে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন, দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করাসহ লাশ বিকৃতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে স্বামীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত ফরেনসিক রিপোর্ট ও ডিএনএ পরীক্ষায় এবং লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থেকে প্রমাণ হয়—শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

পল্লবীর একটি বাসায় গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশীর ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়। কিছুক্ষণ পর বালতি থেকে তার মাথা উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্বপ্না আক্তার দাঁড়ানো ছিলেন। তিনি জানান, তাঁর স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে শৌচাগারে আটকে ধর্ষণ করার পর মেরে ফেলেছেন। পরে লাশ গায়েব করার জন্য ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটেছেন, কাঁধ থেকে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করেছেন। এরপর শিশুটির বাবা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ স্বপ্না ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন বুধবার (২০ মে) ভোরে শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।

আসামির স্বীকারোক্তি

শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তাঁর বাসার দরজা খোলার পর শিশুটিকে দেখে তাঁর বিকৃত মানসিকতা জেগে ওঠে। ওই সময় ইয়াবা আসক্ত হওয়ায় শিশুটিকে ডেকে শৌচাগারে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। শিশুটি বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে ঘটনা ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সোহেল। হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গুম করার পরিকল্পনা করেন। এরপর শিশুটির মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে বিচ্ছিন্ন করেন তাঁরা। এ ছাড়া দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর লাশ শোয়ার ঘরের খাটের নিচে রাখা হয়। এ সময় শিশুটির মা দরজায় নক করছিলেন। আসামি সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিতে স্বপ্না দীর্ঘ সময় ঘরের দরজা খোলেননি। এই সুযোগে সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। এরপর স্বপ্না দরজা খোলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হাসপাতালে যাওয়ার পথেই থেমে গেল জীবন, একই পরিবারের চারজনসহ নিহত ৫

রাশিয়ার প্রতিশোধ: কিয়েভে ভয়াবহ হামলা, ওরেসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা

ইরানের সঙ্গে চুক্তি ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’ বলছেন ট্রাম্প, উদ্বেগে ইসরায়েল

শেরপুরে শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, সহযোগী গ্রেপ্তার

রেললাইনে খড় শুকানোয় চাকা স্লিপ করে সকালে তিন ট্রেন বিলম্ব, জানালেন মন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত