Ajker Patrika

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসানকে প্রধান আসামি করে মামলা

 কুমিল্লা প্রতিনিধি 
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসানকে প্রধান আসামি করে মামলা
জিসান প্রধান। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান আহমদ প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।

এসপি বলেন, জিসানকে অপহরণ করা হয়নি। তিনি বিয়ে এড়াতে পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে ছিলেন। ভুক্তভোগী এক নারীর করা মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিসানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে জিসান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তবে ছাত্রশিবির দাবি করেছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য এখনো উদ্‌ঘাটিত হয়নি এবং জিসানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে পারছে না।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে জিসানের চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, জিসান নিখোঁজ হয়েছেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক টিম তাঁকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ২৫ বছর বয়সী বিধবা এক নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তাঁকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। পরে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, পরে ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। কিন্তু বিয়ে এড়াতে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতেই নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এমনকি আত্মগোপনে যাওয়ার পর নিজের চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের জিডি করান বলেও দাবি পুলিশের।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।’

এর আগে গতকাল রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরে তাঁকে কুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জিসান আহমদ প্রধান (২৮) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

জিসানের খোঁজখবর নিতে আজ কুমেক হাসপাতালে যান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জিসান বর্তমানে ডিবি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি। কথা বলে বিস্তারিত জানানো হবে।

অন্যদিকে ঘটনার বিষয়ে এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, জিসানকে উদ্ধারের পর থেকে আজ বেলা ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সংগঠনের কোনো প্রতিনিধি কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে নিখোঁজ বা অপহরণ-সংক্রান্ত বিষয়ে জিসানের নিজস্ব বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। ছবি: আজকের পত্রিকা
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিবৃতিতে এস এম ফরহাদ দাবি করেন, মামলার বাদীর বড় বোনের ভাষ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ বা প্রশাসনের সদস্যরা বাদীকে তাঁদের বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের তাঁর সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাদী ও তাঁর বাবা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এস এম ফরহাদ আরও বলেন, বাদীর বড় বোন দাবি করেছেন যে, তিনি জিসান ও বাদীর প্রেমের সম্পর্ক আগে থেকেই জানতেন। তবে মামলা করা ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না।

ছাত্রশিবিরের বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় ঘটনার প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে জিসান ও ওই নারীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংগঠনের বিধি অনুযায়ী তাঁকে ইতিমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সংগঠনটি জানিয়েছে, তদন্তে যদি কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তাহলে তারা ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেবে।

এ ঘটনায় পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জিসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা, নিখোঁজ হওয়ার পেছনের প্রকৃত কারণ ও ঘটনাটির অন্যান্য দিক তদন্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত