Ajker Patrika

দাওয়াত দিতে এসে কিলঘুষিতে মধ্যবয়সীর মৃত্যু, মেয়ের শ্বশুর-শাশুড়িসহ আটক ৩

ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
দাওয়াত দিতে এসে কিলঘুষিতে মধ্যবয়সীর মৃত্যু, মেয়ের শ্বশুর-শাশুড়িসহ আটক ৩
আবুল বাশারের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ছেলের শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত দিতে এসে দাওয়াতে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূর বাবা মো. আবুল বাশার (৫০) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহতের পরিবারের দাবি, মেয়ের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের জামাই মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকায় হামিদ আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আবুল বাশার ওই গ্রামের মৃত চেরাগ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন।

নিহতের বড় ভাই রমিজ উদ্দিন, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল আজিজ, আব্বাসউদ্দিন খান ও আবদুল মতিন জানান, ঘটনার আগে তাঁরা নাল্লা সাপেরপুল সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় আবুল বাশার জানান, তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁদের বাড়িতে এসেছেন। তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে যান।

তাঁদের ভাষ্য, আবুল বাশারের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে ময়না আক্তারের গর্ভধারণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে আগামী শুক্রবারের একটি অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিতে মেয়ের শ্বশুর আব্দুল মতিন, শাশুড়ি রোজিনা বেগম এবং ননদের জামাই মো. হৃদয় এসেছিলেন। কিন্তু একই দিনে ভাতিজার বিয়ে থাকায় আবুল বাশার ওই দাওয়াতে যেতে অপারগতার কথা জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে অতিথিরা চলে যেতে চাইলে আবুল বাশার তাঁদের খেয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তখন আব্দুল মতিন তাঁর গলা চেপে ধরে বুকে ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা। এ সময় রোজিনা বেগম ও মো. হৃদয়ও তাঁকে মারধর করেন। গুরুতর অবস্থায় আবুল বাশারকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে খবর পেয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে তাদের হেফাজতে নেয়।

আটক তিনজন হলেন—দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মতিন, তার স্ত্রী রোজিনা বেগম এবং তাদের মেয়ের জামাই মো. হৃদয়।

নিহতের স্ত্রী ঝর্না বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে তাঁদের মেয়ে ময়না আক্তারের সঙ্গে আব্দুল মতিনের ছেলে মহিউদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হতো। এ কারণে দুই পরিবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ভালো ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় মেয়ের গর্ভধারণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে তাঁদের দাওয়াত দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে খাসির মাংস ও বিভিন্ন ধরনের নাশতা নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু একই দিনে অন্য একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা থাকায় তাঁর স্বামী দাওয়াতে যেতে রাজি না হলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর করেন। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মেয়ের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের জামাইকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত