Ajker Patrika

ধর্মীয় পরিচয়ে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না, এমন বাংলাদেশ গড়তে হবে: কৃষিমন্ত্রী

কুমিল্লা প্রতিনিধি
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ১৬
ধর্মীয় পরিচয়ে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না, এমন বাংলাদেশ গড়তে হবে: কৃষিমন্ত্রী
কুমিল্লায় বিএনপির কার্যালয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করে উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগরপাড়ে বিএনপির কার্যালয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এ সভার আয়োজন করা হয়।

আমিন উর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবাই এ দেশের নাগরিক। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখা কিংবা কোনো সম্প্রদায়কে হীনমন্যতায় ভোগানোর সুযোগ নেই। প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এ দেশের ভূমিপুত্র, আমিও এ দেশের ভূমিপুত্র। আমার যতটুকু অধিকার আছে, আপনাদেরও ততটুকু অধিকার রয়েছে। অধিকার কেউ কাউকে দিয়ে দেয় না, নিজের অধিকার নিজেকেই ভোগ করতে হয়।’

ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, একজন মুসলমান ও একজন হিন্দুর রক্তের রং একই। বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই মানুষের ধর্ম। মানুষের প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে সমাজে বিভেদ কমবে এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়বে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পূজা উদ্‌যাপনে সরকার সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তবে সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও অসচ্ছল প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রসঙ্গে আমিন উর রশিদ বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। নিরাপত্তা তদারকিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করার জন্য তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহ্বান জানান।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ আরও বলেন, কেউ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নির্ধারিত জরুরি যোগাযোগ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

কুমিল্লা পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক শ্যামল কৃষ্ণ সাহার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব তালুকদার, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত