Ajker Patrika

কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে ১৬১৩ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত

মাইনউদ্দিন শাহেদ, কক্সবাজার
কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে ১৬১৩ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত
পাহাড়ের ঢাল কেটে গড়ে তোলা বসতঘর। ছবিটি কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে নেওয়া। আজকের পত্রিকা

ঘরভর্তি মেহমানের জন্য রাতের রান্না করছিলেন রোজিনা আক্তার (৩৫)। বাইরে তখন মুষলধারে বৃষ্টি। রান্নাও ছিল শেষ পর্যায়ে। স্বামী মুজিবুর রহমান ঘরে ফিরলেই সবাই খেতে বসবেন। এমন আনন্দঘন প্রস্তুতির মধ্যেই পাহাড় ধসে এসে পড়ে রান্নাঘরে। মাটিচাপা পড়েন গৃহবধূ রোজিনা আক্তার। ঘরের মেহমান, প্রতিবেশী ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করে রোজিনার নিথর দেহ উদ্ধার করে।

১১ জুলাই রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার শহরের অদূরে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলী ঝিরঝিরি পাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শুধু রোজিনা আক্তার নয়, ৪ থেকে ১২ জুলাই কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস ও বন্যায় কক্সবাজারে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ধসে ১৩ রোহিঙ্গাসহ ২০ জন নিহত হন। বাকিরা পানিতে ভেসে ও দেয়ালধসে মারা যান। নিহতের বেশির ভাগ নারী ও শিশু।

কক্সবাজারে এই ৯ দিনে ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে জেলার ১০ উপজেলার ৭১টি ইউনিয়ন ও ৫ পৌরসভার ৪৯ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী ছিল অন্তত আড়াই লাখ মানুষ। পাহাড় ধস, পাহাড়ি ঢল ও সামুদ্রিক জোয়ারে ক্ষতির পাশাপাশি এখন মাতামুহুরি ও বাঁকখালী নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাড়ি-ঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা।

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, ৯ দিনে জেলায় ১ হাজার ৬১৩ বাড়িঘর ও ৩০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলায়।

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যমতে, চকরিয়ার ১০ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এই উপজেলায় ৭ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৩০০।

নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ৮৫ শতাংশ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়। এ উপজেলায় নিহত হয় একজন। ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ১৯০।

পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার ৯৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। এ উপজেলায় দুজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৪৫০ বাড়িঘর ও ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান আজকের পত্রিকাকে জানান, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের তালিকা করে অপসারণ করার পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ দিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ জুলাই রাত থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গা নিহত, ১৮ জন আহত এবং ২৬ হাজার ১১৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ সময়ে ৪ হাজার ৩০৭ জন সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই সময়ে ২৮৬টি আবহাওয়াজনিত ঘটনা ঘটেছে।

ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৯৫টি ভূমিধস, ১৫৬টি ঝোড়ো হাওয়া এবং ২১টি বন্যার ঘটনা ঘটেছে। টানা বৃষ্টিতে ২ হাজার ৮০৯টি আশ্রয় আংশিক এবং ১৩টি আশ্রয় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাকেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করা রোহিঙ্গাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে পাহাড়ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে ক্যাম্পে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত