Ajker Patrika

প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অনন্য দৃষ্টান্ত: খাল খনন শেষে অতিরিক্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত

প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অনন্য দৃষ্টান্ত: খাল খনন শেষে অতিরিক্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। ছবি: সংগৃহীত

তিনি চাইলেই কাজ শেষে থেকে যাওয়া অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে পারতেন। নানাবিধ খরচ দেখিয়ে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভারী করতে পারতেন। এদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক মানুষই তা করেন। কিন্তু খাল খনন কাজের শেষে অতিরিক্ত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে সততা, ন্যায়পরায়ণতা আর দেশপ্রেমের অনন্য নজির স্থাপন করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। আর এ কাজটিই তাঁকে আরও বেশি সম্মানিত আর গ্রহণযোগ্য করে তুলল সবার কাছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৯ নম্বর মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের মাখালডাঙ্গা বড় বিল থেকে চিত্রা নদী পর্যন্ত ৮০০ মিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে উদ্বৃত্ত ১৯ লাখ ৭১ হাজার ৯৯৪ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন ইউএনও তিথি মিত্র। তিনি জানান, গতকাল রোববার ওই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে খালটির পানিপ্রবাহ অবরুদ্ধ থাকায় বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হতো। শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিত সেচের পানির সংকট। স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির আওতায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে মোট ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৫৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রকল্পের কাজ শেষে মোট ব্যয় হয়েছে ৩১ লাখ ৮২ হাজার ১ টাকা। ফলে উদ্বৃত্ত থাকে ১৯ লাখ ৭১ হাজার ৯৯৪ টাকা। অবশিষ্ট অর্থ অন্য খাতে ব্যয় না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি তহবিলে জমা করার সিদ্ধান্ত নেন ইউএনও তিথি মিত্র।

স্থানীয় অধিবাসীরা বলছেন, মাখালডাঙ্গা বড় বিল থেকে চিত্রা নদী পর্যন্ত খাল খনন সম্পন্ন হওয়ায় এলাকার শত শত একর ফসলি জমিতে এবার ফলন ভালো হবে। জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি কৃষকেরা সেচসুবিধা ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বলেন, ‘খাল খনন সঠিকভাবেই হয়েছে। আমি নিজে তদারকি করেছি। ১৯ লাখ ৭১ হাজার ৯৯৪ টাকা উদ্বৃত্ত ছিলো। আমি গতকাল ২৬ জুলাই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে টাকাগুলো জমা দিয়েছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত