Ajker Patrika

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় খুলশী থানার ওসি প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় খুলশী থানার ওসি প্রত্যাহার

চট্টগ্রামে বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও থানায় নেওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের পর এবার খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর আদেশে তাঁকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

সিএমপির মুখপাত্র ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিআর) আমিনুর রশিদ শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খুলশী থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর স্থলে বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে খুলশী থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর খুলশী থানার লালখান বাজার ফ্লাইওভারের নিচে জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য নাঈম হাসানকে তল্লাশির নামে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর রাতেই তিন পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় শনিবার খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও কনস্টেবল রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএমপি।

নাঈম হাসানের অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার সাভারের বিকেএসপিতে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ম্যাচ খেলে রাত ১০টা ২০ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের একটি গাড়ি তাঁকে বহনকারী অটোরিকশার গতিরোধ করে।

নাঈম জানান, গাড়ি থামানোর পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য চালকের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে তাঁকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। একপর্যায়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন তিনি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরিচয়পত্রও দেখান। এরপরও এসআই শফিকুল ইসলাম তাঁকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন নাঈম। তাঁর দাবি, পুলিশের এক সোর্স পরিচয়ধারী ব্যক্তিও তাঁকে পাইপ দিয়ে মারধর করেন।

নাঈম বলেন, ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করলেও মারধর বন্ধ হয়নি; বরং তাকে ‘আসামি’ বলে চুপ থাকতে বলা হয়।

নাঈম আরও বলেন, পরে তাঁকে খুলশী থানায় নেওয়া হয় এবং ওসির কক্ষেও হেনস্তার শিকার হতে হয়। তাঁর ভাষ্য, প্রথমে ওসি তাঁর সঙ্গে কঠোর আচরণ করলেও পরে একটি ফোনকল পাওয়ার পর আচরণে পরিবর্তন আসে।

তবে খুলশী থানার তৎকালীন ওসি মো. আরিফুর রহমান শনিবার সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, বিমানবন্দর থেকে একটি নির্দিষ্ট নম্বরের সিএনজিতে চোরাচালানের মালপত্র বহন করা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল অটোরিকশাটি তল্লাশি করেছিল। তবে ওই অভিযানের বিষয়ে তাঁকে আগাম কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর শনিবার দুপুরে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী নাঈম হাসানের চান্দগাঁওয়ের বাসায় গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত