Ajker Patrika

চন্দনাইশে নির্যাতনের অভিযোগে যুবকের মৃত্যু, স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৩

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২১: ৫৪
চন্দনাইশে নির্যাতনের অভিযোগে যুবকের মৃত্যু, স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৩
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের অভিযোগে গুরুতর আহত মোহাম্মদ হাশেম (৩৭) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে চন্দনাইশ থানা-পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহত হাশেমের স্ত্রী আয়শা আক্তার ওরফে বাছুনী (৩৭), দোহাজারী পৌরসভার উত্তর চাগাচর ভাঙাপাড়ার এয়াকুব নবীর ছেলে নাজিম উদ্দিন (৪৭) ও একই এলাকার মুন্সি ড্রাইভারের বাড়ির মৃত নূর হোসেনের ছেলে ফোরকান আহমদ (৫২)।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার ঘটনার দিন আয়শা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে আজ রোববার দোহাজারী পৌরসভা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাজিম উদ্দিন ও ফোরকান আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার ভোরে হাশেমকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের বরুমতি সেতুর মাজার পয়েন্ট এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। স্থানীয় পথচারী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সকাল পৌনে ৮টার দিকে সেতুর ওপর মুমূর্ষু অবস্থায় হাশেমকে দেখতে পান। পরে তাঁরা তাঁকে উদ্ধার করে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়।

হাশেমের বাড়ি সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বাদশাপাড়া এলাকায়। তাঁর বাবা বানু মিয়া। প্রায় ১৬ বছর আগে দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর মাতব্বর বাড়ির মৃত ইউছুফ আলীর মেয়ে ও তাঁর আপন ফুফাতো বোন আয়শা আক্তারের সঙ্গে হাশেমের বিয়ে হয়। দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বিয়ের পর পৈতৃকসূত্রে পাওয়া জমিজমা ও ঘরবাড়ি বিক্রি করে হাশেম শ্বশুরবাড়ির এলাকায় চলে যান। সেখানে স্ত্রীর নামে জায়গা লিখে দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। প্রায় চার বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকার পর এক বছর আগে দেশে ফেরেন তিনি।

নিহত হাশেমের পরিবারের অভিযোগ, দেশে ফেরার পর সম্পদ ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে হাশেমের সঙ্গে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরোধ শুরু হয়। বিরোধের জেরে তাঁর ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। গত মাসেও তাঁকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।

পরিবারের সদস্যদের আরও অভিযোগ, গত বুধবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী ও কয়েকজন মিলে হাশেমকে মারধর করেন এবং তাঁর ডান পা ভেঙে দেন।

চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার জানান, প্রাথমিক তদন্তে সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়ে প্রথমে নিহত হাশেমের স্ত্রী আয়শা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গতকাল শনিবার রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত চন্দনাইশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত অপর দুই আসামি নাজিম উদ্দিন ও ফোরকান আহমদকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আজ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত