Ajker Patrika

ফটিকছড়িতে সড়ক পুনর্নির্মাণ: অভিযোগ অনিয়মের, অগ্রগতি সামান্য

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
ফটিকছড়িতে সড়ক পুনর্নির্মাণ: অভিযোগ অনিয়মের, অগ্রগতি সামান্য
ফটিকছড়ির গার্ডের দোকান থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গার্ডের দোকান থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়কের পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম, ধীরগতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও প্রশাসনিক নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগে প্রকল্পটি শুরু থেকেই প্রশ্নের মুখে রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবাদের মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উল্টো চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৮ ফুট প্রশস্ত এই সড়কের কাজ আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষের পথে হলেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতি ১০ শতাংশের কম। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে এএসবি লিমিটেড ও ফামানটেক করপোরেশন।

অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকেই নিম্নমানের ইটের খোয়া, সুরকি ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছিল। এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে নিম্নমানের উপকরণ অপসারণের নির্দেশ দেয়।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে আবারও কাজ শুরুর চেষ্টা করা হলে তাঁরা বাধা দেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পরপরই প্রকল্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভূজপুর থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ ও ২৯ এপ্রিল কয়েক ব্যক্তি ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং তা না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এই ঘটনায় ছাত্রদল নেতা শরীফসহ চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক রাশেদ দাবি করেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি টেন্ডার না পেয়ে শুরু থেকে কাজে বাধা দিয়ে চাঁদা দাবি করছিলেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তাদের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফামানটেক করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আরিফ বলেন, ইটভাটা থেকে নিম্নমানের খোয়া সরবরাহ করা হয়েছিল, যা পরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপরও একটি পক্ষ চাঁদা দাবি অব্যাহত রাখায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। কাজের মান ও অন্যান্য বিষয় সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর দেখবে।

উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী বলেন, কাজের মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর প্রকল্পটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের উপকরণ অপসারণ করে পুনরায় কাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শন শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত