Ajker Patrika

মিরসরাইয়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়কের পাশে ২,৩০০ তালগাছ রোপণের উদ্যোগ তরুণের

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
মিরসরাইয়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়কের পাশে ২,৩০০ তালগাছ রোপণের উদ্যোগ তরুণের
মো. ওমর শরীফের উদ্যোগে পাঁচ কিলোমিটার সড়কের পাশে লাগানো হচ্ছে তালগাছ। ছবি: আজকের পত্রিকা

একসময় গ্রামবাংলার মাঠ, রাস্তার ধারে কিংবা জনপদের পরিচিত দৃশ্য ছিল সারি সারি তালগাছ। সময়ের সঙ্গে সেই দৃশ্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে। অথচ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। সেই ভাবনা থেকেই চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. ওমর শরীফ।

আজ মঙ্গলবার উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নের ছত্তর ভূঁইয়ারহাট এলাকায় কয়েকটি তালগাছ রোপণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদীঘি এলাকা থেকে কাটাছাড়া ইউনিয়নের ছত্তর ভূঁইয়ারহাট পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে মোট ২ হাজার ৩০০টি তালগাছের চারা রোপণ করবেন এই কৃষি উদ্যোক্তা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায়, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলিউল কবির ইকবাল, জোহরা এগ্রো ফার্মস অ্যান্ড নার্সারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর শরীফসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও কৃষি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, দেশে তাল ও খেজুরগাছের সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। তালগাছ শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তিনি স্থানীয়দের গাছগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

উদ্যোক্তা মো. ওমর শরীফ বলেন, ‘প্রতি বছরই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এবার পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘ সড়কের পাশে তালগাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই গাছগুলো একদিন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দেবে, পরিবেশকে সবুজ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। তালগাছ আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের অংশ। এগুলো রোপণ করলে পরিবেশ যেমন উপকৃত হবে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এর সুফল পাবে। আমরা সবাই মিলে গাছগুলোর পরিচর্যা করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত