Ajker Patrika

পরোয়ানা ছিল, অফিসও করতেন, শেষমেশ কারাগারে নুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
পরোয়ানা ছিল, অফিসও করতেন, শেষমেশ কারাগারে নুর
মো. নুর চৌধুরী । ছবি: সংগৃহীত

ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও এতদিন গ্রেপ্তার হননি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাবেক সার্ভেয়ার মো. নুর চৌধুরী (৫২)। অবশেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া নুর চৌধুরী চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের ১ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ২৭৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এলএ শাখার সাবেক সার্ভেয়ার মো. নুর চৌধুরী মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গা মৌজায় ভুয়া মালিক সাজিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের ১ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ২৭৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি নুর চৌধুরীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করে দুদক। দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

পরে মামলাটির তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। ২০২৩ সালে আদালত দুদকের অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে সব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার আরও চারজন সার্ভেয়ার, দুজন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও একজন কানুনগো রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে নুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও তিনি আদালত ও পুলিশের কাছে এতদিন পলাতক ছিলেন।

এর আগে গত ১৩ জুন দৈনিক ‘আজকের পত্রিকা’য় নুর চৌধুরীকে নিয়ে ‘তবু অফিস করছেন তিনি’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুদকের মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকার পরও আদালত ও পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের পাশেই জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় তিনি বছরের পর বছর যাতায়াত করতেন।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পরও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আগ পর্যন্ত তিনি নিয়মিত এলএ শাখায় যাতায়াত করতেন এবং বিভিন্ন ভূমি অধিগ্রহণ মামলার ফাইল নিয়ে দাপ্তরিক কাজ করতেন। তৎকালীন সরকারের সময় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর চলাফেরা এবং জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব থাকার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে আসে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি আদালতের নজরে আসে বলে জানা গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত