Ajker Patrika

১৩ দিনেও কাটেনি চুয়েটের অচলাবস্থা, উপাচার্য ভবনের সামনে শিক্ষক-কর্মকর্তারা

রাউজান প্রতিনিধি ও নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ২৩
১৩ দিনেও কাটেনি চুয়েটের অচলাবস্থা, উপাচার্য ভবনের সামনে শিক্ষক-কর্মকর্তারা
উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ১৩তম দিনে গড়িয়েছে। একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আজ রোববার (৪ অক্টোবর) উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন তাঁরা।

টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চুয়েটের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে আছে। বন্ধ রয়েছে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা। আন্দোলনের কারণে কয়েকটি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষাও স্থগিত রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নেননি। গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সায়েমকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপন জারির প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক শাটডাউন।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা, মুখোশ মিছিল, চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ এবং প্রতিবাদী কনসার্টসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। শনিবারও নতুন উপাচার্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিল করেন তাঁরা।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন প্রত্যাহার করা হবে না।

শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মবিরতিতে যান চুয়েট শিক্ষক সমিতির সদস্যরা। পরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মসূচিতে যুক্ত হন। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও একমাত্র দাবি অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করা।

চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম গত ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে না গিয়ে অনলাইনে যোগদান করেন। গত কয়েক দিন ধরে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছেন।

অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষার্থীরা এখন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল এবং চুয়েটের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আহসান উল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমরাও কর্মসূচি পালন করছি।’

অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত সরকারের সুদৃষ্টিও কামনা করেন এই শিক্ষক নেতা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত